সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগর-২ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত পালধুই পঞ্চায়েতে গেরুয়া শিবিরে ধস নামল। এদিন গেরুয়া শিবিরের চার পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলেন। বৃহস্পতিবার বালিসাইয়ে ব্লক পার্টি অফিসে একটি সভায় তাঁরা তৃণমূলে যোগ দেন। বিজেপির চার পঞ্চায়েত সদস্যর নাম মনোজিৎ মান্না, চৈতালি গিরি, প্রিয়াঙ্কা মাইতি ও সঞ্জয় গারু। এছাড়ায় এদিন তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য গৌতম জানা সহ আরও পাঁচজন স্থানীয় নেতা। কয়েকটি পরিবারও এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান ব্লক তৃণমূল সভাপতি সত্যরঞ্জন রায়, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ গিরি সহ অন্যান্যরা। এই যোগদানের ফলে পালধুই পঞ্চায়েতে শক্তিশালী হল তৃণমূল। ২১টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ১৫টি এবং তৃণমূলের দখলে ছ’টি আসন ছিল। এবার চারজন সদস্য তৃণমূলে আসায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০। আর বিজেপির আসন সংখ্যা কমে হল ১১।
তৃণমূল ব্লক সভাপতি বলেন, বিজেপির আরও দু-তিনজন সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আগামীদিনে পালধুই পঞ্চায়েত তৃণমূলেরই দখলে আসবে। যোগদানকারীরা বলেন, দু’বছর হতে চললেও পঞ্চায়েত এলাকায় কোথাও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। পঞ্চায়েতে উন্নয়ন নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। মানুষ পঞ্চায়েত থেকে ঠিকঠাক পরিষেবা পান না। যাঁরা পঞ্চায়েত চালান, তাঁরা মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পানীয় জল, গাছ কাটা থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে অনিয়ম রয়েছে। মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা তৃণমূলে যোগদান করলাম।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, এলাকায় উন্নয়নের কাজ যথারীতি চলছে। তৃণমূল ওই সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে তাদের দলে নিয়ে গিয়েছে। কিছুটা বোঝাপড়ার অভাব ছিল ঠিকই। তবে আগামীদিনে তাঁরা দলে ফিরে আসবেন।
উল্লেখ্য, অনেকদিন ধরেই পালধুই পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান সহ কয়েকজন বিজেপি সদস্যের সঙ্গে দলের বাকি সদস্যদের নানা ইস্যু নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। শেষ পর্যন্ত বিক্ষুব্ধদের মধ্যে চারজন সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলেন। প্রধান শম্পি বেজ বলেন, ওঁরা অনেক আগে থেকেই তৃণমূলে পা বাড়িয়ে রেখেছিলেন। এদিন যোগদান করলেন। অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন।