নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসকে দলে টানার সম্ভাবনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর আপত্তিকে কার্যত নস্যাৎ করে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তমের বাড়ি পৌঁছে গেলেন বারাকপুরের বিজেপি নেতা-কর্মীরা। যার মধ্যে ছিলেন বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য অহীন্দ্রনাথ বসু, যুব নেতা সঞ্জয় যাদব। মিষ্টি তুলে দিয়ে শুধু বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, দলীয় বিধায়কের অতীত টেনে তাঁকে বেনজির ভাষায় তুলোধনা করলেন বিজেপি নেতারাই। ফলত, বারাকপুরের রাজনীতিতে বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে এসে পড়ল। বিধায়ককে আক্রমণ করলেন টিটাগড়ের মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ সিং। তিনি বলেন, বিধায়ক তো অনেক তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। কাউকে নেওয়া হবে না। এদিন প্রাক্তন তৃণমূল চেয়ারম্যান উত্তম দাসের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব মিষ্টি খাইয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখান থেকেই কৌস্তভকে নিশানা করেন সঞ্জয় যাদব। তাঁর অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যখন কর্মীরা মার খাচ্ছিলেন, তখন কৌস্তভকে দেখা যায়নি। উনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে টিকিট পেয়েছেন। পাশাপাশি, টিটাগড় থানায় তোলাবাজির অভিযোগ এবং ক্লাব-মন্দির দখলের প্রসঙ্গ টেনেও বিঁধতে ছাড়েননি দলীয় বিধায়ককে।
আক্রমণের সুর চড়ান অহীন্দ্রনাথ বসুও। কৌস্তভের আত্মহত্যার হুমকিকে কটাক্ষ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিধায়কের বিতর্কিত বক্তব্যের কথা। অহীন্দ্রনাথের সাফ কথা, সৌজন্যের খাতিরেই এই সাক্ষাৎ। কাকে দলে নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য নেতৃত্ব।
যদিও দলবদলের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। উত্তম দাস বলেন, দুর্গাপুজোর বিজয়া সমস্ত দলীয় ভেদাভেদ মুছে দেয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক শর্ত বা যোগদানের প্রশ্নই ওঠেনি। তিনি এখনও অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে রয়েছেন এবং অর্জুনকে নেতা বলে তাঁর দাবি, তাঁদের আড়াই দশকের সম্পর্ক অটুট। কৌস্তভ বাগচী বলেন, ‘যারা উত্তম দাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা পার্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নন। ওই নেতা মণীশ শুক্লার খুনের রক্ত লেগে আছে। আমার বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ বা কারও অঙ্গুলি হেলনে এসব কাণ্ড যারা ঘটাচ্ছেন তারা আয়নায় নিজেদের মুখ দেখতে পারবেন তো?’



