Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি নেতাকে ১০ হাজার দিয়েও নাম নেই আবাসে, বিপাকে পড়ে টাকা ফেরত

আবাস যোজনার সার্ভেতে গিয়ে ১০হাজার টাকা নিয়েছিলেন বিজেপি নেতা। সঙ্গী ছিলেন পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট

বিজেপি নেতাকে ১০ হাজার দিয়েও নাম নেই আবাসে, বিপাকে পড়ে টাকা ফেরত
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস যোজনার সার্ভেতে গিয়ে ১০হাজার টাকা নিয়েছিলেন বিজেপি নেতা। সঙ্গী ছিলেন পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। আবাস লিস্টে নিজের নাম দেখতে না পেয়ে গোপনে টাকা লেনদেনের সময় তোলা ভিডিও বিডিওর কাছে পাঠিয়ে দেন আবাস যোজনায় বঞ্চিত উপভোক্তা। শেষমেশ বিডিওর হস্তক্ষেপে পঞ্চায়েত অফিসে ১০হাজার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হল। চণ্ডীপুর ব্লকের চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুরুন্দা গ্রামের ঘটনা ওই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে ব্লক প্রশাসনও। চণ্ডীপুরের বিডিও এবং জয়েন্ট বিডিও উত্তম প্রামাণিক নামে ওই বাসিন্দার বাড়িতে যান। আবাস প্রকল্পে তাঁর বাড়ি তৈরির টাকা অনুমোদন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে টাকা লেনদেনের ঘটনায় বিজেপি নেতা এবং তাঁর সঙ্গী পঞ্চায়েত কর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চণ্ডীপুরের বিডিওকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তমলুকের মহকুমা শাসক মানসকুমার পাণ্ডা। তিনি বলেন, আমি ভিডিওটি বিডিওকে পাঠিয়ে খতিয়ে দেখতে বলেছি। চণ্ডীপুরের বিডিও রামকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। সূত্রের খবর, চণ্ডীপুরের বিডিও বিজেপি নেতাকে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ২১সেপ্টেম্বর চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিজেপি নেতা কালোবরণ মণ্ডল ও বুরুন্দা গ্রামের বাসিন্দা উত্তম প্রামাণিককে। পঞ্চায়েতের প্রধান মুসরেমিন বিবি সহ কয়েকজন ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কালোবরণ ১০হাজার টাকা উত্তমবাবুকে ফেরত দেন। সেইসঙ্গে কৃতকর্মের জন্য ওই বিজেপি নেতা ক্ষমা চেয়ে নেন। 

Advertisement

বুরুন্দা গ্রামের উত্তমবাবুর কাঁচা বাড়ি। তিনি আবাস প্রকল্পের দাবিদার। গত আগস্ট মাসে চৌখালি পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জয় দাস তাঁর বাড়িতে সার্ভে করতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা কালোবরণ। তিনি ওই বুথের বিজেপির বিএলএ-২ ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আবাসের সার্ভে চলাকালীন উত্তম প্রামাণিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন সঞ্জয় দাস ও কালোবরণ। বাড়ির ভিতর দু’জনে দু’টি চেয়ারে পাশাপাশি বসে রয়েছেন। কথাবার্তার মাঝে পঞ্চায়েত কর্মী চেয়ার ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। সেইসময় উত্তমবাবুর স্ত্রী তপতীদেবী কালোবরণের হাতে টাকার বান্ডিল তুলে দেন।
তারপরেও আবাস লিস্টে উত্তমবাবুর স্ত্রী তপতীর নাম ওঠেনি। তা দেখে ক্ষিপ্ত উত্তম সার্ভে চলাকালীন তোলা গোপন ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। বিডিওকেও পাঠিয়ে দেন। তারপরই প্রশাসনিক মহলেও শোরগোল পড়ে যায়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। উত্তম বলেন, আমার গ্রামের অনেকেই আবাসে দু’বার ঘরের টাকা পেয়েছেন। আমি ন্যায্য উপভোক্তা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ, সার্ভে চলাকালীন বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ১০হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আনতেই বিডিওর হস্তক্ষেপে পঞ্চায়েত অফিসে আমাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বিজেপি নেতা কালোবরণ বলেন, আমার টাকা নেওয়াটা ভুল হয়েছে। আমি সেই টাকা উত্তম প্রামাণিককে ফেরতও দিয়েছি।
পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জয় দাস বলেন, আমি সার্ভে করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু, টাকা দেওয়া এবং নেওয়ার মধ্যে আমি ছিলাম না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ