Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডালখোলায় বেল্ট দিয়ে কিশোরকে মার, ধৃত বিজেপি নেতা

চুরির অপবাদে কিশোরকে বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে পেটানোর অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে।

ডালখোলায় বেল্ট দিয়ে কিশোরকে মার, ধৃত বিজেপি নেতা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: চুরির অপবাদে কিশোরকে বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে পেটানোর অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। কিশোরকে মারধরের সেই ভিডিয় সমাজমাধ্যমে ভাইরাল (যদিও সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) হয়েছে। কিশোরকে মারধরের ভিডিয় ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে ডালখোলা শহরে। বিজেপি নেতার এই ‘দম্ভে’ অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অর্জুন সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে। যদিও অর্জুনকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির ডালখোলা টাউন মণ্ডল সভাপতি গৌতম দে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ওই নেতা বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। জানা গিয়েছে,ধৃত অর্জুন বিজেপির যুব মোর্চার জেলা কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। ডালখোলার লোকনাথপাড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি বাইকের শোরুম আছে তাঁর। কয়েকদিন আগে শোরুমে কিছু জিনিসপত্র চুরি যায়। ‘চোর’ সন্দেহে স্থানীয় চার কিশোরকে তুলে আনা হয়। এরপরই তাদের উপর শুরু হয় নূশংস নির্যাতন। নির্যাতিতদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মারধরের ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। সন্ধে নাগাদ শোরুমের কর্মী পাঠিয়ে ওই কিশোরদের তুলে আনা হয়েছিল। অভিযোগ, রাত ১০ টা পর্যন্ত ওই কিশোরদের উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। এক মিনিট ১২ সেকেন্ডের ওই ভাইরাল ভিডিয়’র শুরুতেই বেল্ট দিয়ে পেটানোর শব্দ ও এক কিশোরের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। কিশোরকে ঘিরে বেশকিছু মানুষ। ভিডিয়তে দেখা যাচ্ছে, এক কিশোরকে বেল্ট নিয়ে পেটানো হচ্ছে। অন্য আর এক যুবক কিশোরকে ধরে রেখে মারধরে সাহায্য করছে। পাশেই বসিয়ে রাখা হয়েছে আরো তিন কিশোরকে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নির্যাতন দেখার পর যুবকের হাত থেকে বেল্ট নিয়ে নেন অর্জুন। সেই বেল্ট নির্যাতিত কিশোরের সঙ্গে থাকা অন্য এক কিশোরের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই কিশোরকে তা দিয়ে পেটাতে বাধ্য করা হয়। প্রহৃত কিশোরের মাথা চেপে রাখেন খোদ অর্জুন। অভিযোগ,এক কিশোরকে মারধরের ভিডিয় ভাইরাল হলেও বাকি তিন কিশোরকেও মারধর করা হয়েছে। মারে জখম কিশোরদের চিকিৎসা চলছে। নির্যাতিত এক কিশোরের মা পরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বলেন, ছেলে অসুস্থ ছিল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ আমি বাড়িতে ছিলাম না। সেসময় অর্জুনের শোরুমের দু’জন কর্মী এসে আমার ছেলেকে বাইকে করে নিয়ে যায়। ছেলে ভয় পেয়ে বাড়িতে ফোন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিশোরের মায়ের বক্তব্য, অর্জুন, তাঁর ভাই ও কয়েকজন কর্মী মিলে ছেলেকে মারধর করেছেন। মারের চোটে ছেলে হাঁটতেও পারছে না। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ইসলামপুর পুলিস জেলার এএসপি ডেন্ডুপ শেরপা জানিয়েছেন মারধরের অভিযোগে অর্জুনসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ