সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে। কিন্তু তার আগে বুথ কমিটি গঠনের জন্য দিনহাটাতে দলের সক্রিয় কর্মীই খুঁজে পাচ্ছে না গেরুয়া শিবির। ফলে ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটে দিনহাটা মহকুমায় থাকা দু’টি বিধানসভা আসনে কতটা দলের সাংগঠনিক হাল ফিরবে সেটা নিয়ে সন্দিহান খোদ গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরাই।
বিজেপির অন্দরের খবর, দিনহাটা মহকুমায় থাকা দু’টি বিধানসভা দিনহাটা ও সিতাইতে প্রায় ৬০০ বুথ। তারমধ্যে অর্ধেকের বেশি বুথেই বুথ কমিটি গঠন করার মতো সক্রিয় সদস্যই নেই বিজেপির কাছে। ফলে ওসব বুথে কমিটি গঠন এখনও অথৈ জলে। যা নিয়ে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভও রয়েছে যথেষ্ট। এই পরিস্থিতিতে জেলায় দলের পাঁচ বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিক এমন হালে চিন্তায় পদ্মফুল শিবির।
অন্যদিকে, বুথে বুথে জনসংযোগের পাশাপাশি আগামী বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য রেখে বুথস্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মাঠে নেমে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৯ সালে লোকসভা আসন জেতার পরে কোচবিহারে বিজেপির রমরমা শুরু হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ছাপিয়ে যায় তারা। জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ছ’টি দখল করে গেরুয়া শিবির। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস-রিগিংয়ের অভিযোগ সত্ত্বেও কোচবিহার জেলায় ২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। তারমধ্যে দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি-১, ভেটাগুড়ি-২ ও মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে যায়।
কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসন শাসকদল বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরে সাংগঠনিক শক্তিতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিজেপির দখলে থাকা একাধিক জেতা গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়। পাশাপাশি বহু নেতা-কর্মী পদ্মশিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন। লোকসভার পর সিতাই উপ নির্বাচনেও তৃণমূলের জয়ে বাড়তি উজ্জীবিত ঘাসফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিরাজ বসু বলেন, দিনহাটা ও সিতাইতে তৃণমূলের সন্ত্রাস সব থেকে বেশি। আমাদের দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার করে, ভয় দেখিয়ে তাঁদের দাবিয়ে রাখা হয়েছে। জোর করে তাঁদের হাতে তৃণমূল পতাকা তুলে দিচ্ছি। ঘরছাড়াদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ আছে। সময় মতো তৃণমূলকে হিসেব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কর্মীর ঘটতি থাকলেও বুথ কমিটি ধাপে ধাপে গঠন করা হবে।
তৃণমূলের কোচবিহারের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, জেলায় আমাদের শক্তঘাঁটি দিনহাটা ও সিতাই। সেখানে তো বিজেপির কোনও অস্তিত্বই নেই। আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ন’টি আসনেই জয়ী হবে।