Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতার হাতে আত্মপ্রকাশ, পশ্চিম বর্ধমানের নাম বদলে তৎপর বিজেপি

বিজেপি বিধায়করা প্রস্তাব দিয়েছেন, পশ্চিম বর্ধমান নাম বদলে ‘আসানসোল-দুর্গাপুর’ করা হোক।

মমতার হাতে আত্মপ্রকাশ, পশ্চিম বর্ধমানের নাম বদলে তৎপর বিজেপি
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: রাজ্যের নাম বদল নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে কম টানাপোড়েন হয়নি। তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তব দিয়েছিল। কেন্দ্র অবশ্য সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দেয়নি। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর সেই প্রস্তাব পুরোপুরি ঠান্ডাঘরে চলে যাবে বলে মত অনেকেরই। উল্টে, বিজেপি উস্কে দিল পশ্চিম বর্ধমানের নাম পরিবর্তনের। ২০১৭ সালে অখণ্ড বর্ধমান ভেঙে আত্মপ্রকাশ ঘটে পশ্চিম বর্ধমান। মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পশ্চিম বর্ধমানের নাম বদল করতে তৎপর হল বিজেপি। দলের বিধায়করা প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তা নিয়ে দরবারও করেছেন। তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন, পশ্চিম বর্ধমান নাম বদলে ‘আসানসোল-দুর্গাপুর’ করা হোক। আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের গরিমাকে সম্মান জানাতেই এই প্রস্তাব বলে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সৃজনী হলে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম বর্ধমান ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার বিধায়ক জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা ওই বৈঠকে ছিলেন। সেখানে নিজের এলাকা নিয়ে বলতে গিয়ে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি জেলার নাম পশ্চিম বর্ধমানের বদলে আসানসোল-দুর্গাপুর করার প্রস্তাব দেন। আসানসোলের প্রাক্তন মেয়রের এই দাবিকে সমর্থন করেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপি সূত্রে দাবি, বিষয়টি জেলাশাসককে ১৫ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করেননি। তবে, সূত্রে খবর, জেলার ন’জন বিধায়কই বিজেপির। তাঁরা প্রত্যেকেই সেই প্রস্তাবে সম্মত থাকলে নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘আসানসোল জেলা হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার সেন্টার রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তার দু’পাশ যানজট থাকে। তাই দুর্ঘটনার পর সময় মতো সেখানে রোগীকে নিয়ে যাওয়াই যায় না।’ প্রশাসনিক বৈঠকে কারখানার গেটের সামনে তোলাবাজি করার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। বিজেপি বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, কারখানার গেটের সামনে ইউনিয়ন অফিস ও সিন্ডিকেট অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই তোলাবাজি করা হয়। এমনকী, শ্রমিকদের মজুরি থেকে কাটমানি নিয়ে শ্রমিক শোষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি বিধায়কদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলেছেন পুলিশকে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের তোলাবাজি, অবৈধ কারবার বরদাস্ত করা হবে না। যা ব্যবসা হবে তা বৈধভাবে। যাতে  কোনোভাবেই রাজস্ব ক্ষতি না হয়। রাস্তা দখল করে থাকা পার্টি অফিসে পদক্ষেপ করার জন্য পুলিশ পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই মায়াবাজার রেল ওভারব্রিজ দ্রুত যাতে হয়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা জেলার নাম বদলের প্রস্তাব দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ