সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘মোদি’ পদবি নিয়ে বিতর্কের জেরে ২০২৩ সালে পাঁচ মাসের জন্য সদস্যপদ হারিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। যদিও ফের জিতে এসেছেন চব্বিশে। এবার তাঁর লোকসভার সদস্যপদ খারিজে তৎপর হল বিজেপি। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেট চর্চায় মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন রাহুল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তার পালটা জবাব দিলেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। তাই এবারে রাহুলের সদস্যপদ খারিজের চেষ্টায় সক্রিয় হয়েছে গেরুয়া শিবির।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বুধবার বলেছিলেন, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনব। যদিও শেষ পর্যন্ত তা করেনি সরকার। বৃহস্পতিবার দলের দুঁদে সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে দিয়ে নোটিস দেওয়ানো হল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মধ্যে থেকে ভারতে অস্থিরতা তৈরির লাগাতার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। ভারত বিরোধী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। নিশিকান্ত প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রাহুল রহস্যজনকভাবে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং বাহরিন যান? কেনই বা ভারতীয় দূতাবাসের থেকে তাঁর গতিবিধি আড়াল করেন?
নিশিকান্তের আরও অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হয়েও সংসদে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী সেনাবাহিনী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, দেশকে অসম্মান করেছেন। এ ব্যাপারে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গড়ে রাহুলের লাগাতার দেশকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি বিচার করার পাশাপাশি তাঁর সদস্যপদ খারিজ করার দাবিতে সওয়াল করেছেন বিজেপির ঝাড়খণ্ড গোড্ডার সাংসদ। উল্লেখ্য, এই নিশিকান্ত দুবের অভিযোগের ভিত্তিতে ‘অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন পেশ’ মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর কৃষ্ণনগরের সদস্যপদ খোয়া গিয়েছিল।
তাই তাঁকে দিয়েই রাহুলের সদস্যপদ খারিজের উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি। যদিও মজার ব্যাপার হল, ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে (নোটিস) দু’জায়গায় রাহুলের জায়গায় ‘রাজীব গান্ধী’ লেখা হয়েছে। এই ভুল ইচ্ছাকৃত, নাকি অনবধানবশত, তা স্পষ্ট নয়। চিঠিতে কোথাও স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও এটিকে ‘সাবস্ট্যানটিভ মোশনে’র নোটিস বলেই প্রচার করা হচ্ছে। যে নোটিস গৃহীত হলে লোকসভায় ভোটাভুটি করে কারও সদস্যপদ খারিজ হতে পারে।
যদিও এই চিঠিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে কংগ্রেস। রাহুল নিজে কোনো মন্তব্য করলেও আসরে নেমেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বলেন, ‘বিজেপির যা ইচ্ছা নোটিস আনুক। আসলে ওরা রাহুল গান্ধীকে ভয় পায়। তাই সত্যি সহ্য করতে পারে না।’ একই সুরে দলের এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপালের মন্তব্য, ‘বিজেপি যেন ভুলে না যায়, এর আগেও রাহুলজির সদস্যপদ খারিজ করার চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেনি। ২০২৪ সালেও কেরলের ওয়েনাড় এবং উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি, দু’জায়গা থেকেই রাহুল গান্ধী জিতে এসেছিলেন। মোদিজির চেয়ে বেশি মার্জিনে।’