নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার প্রাচীন প্রবাদ, উলুবনে মুক্তো ছড়িয়ে লাভ নেই। এই বাংলাকে কি ‘উলুবন’ হিসাবেই স্থির করে নিল বিজেপি? এসআইআরে যেমনটা ভেবেছিল, তেমন কোটি কোটি বাংলাদেশি-রোহিঙ্গার খোঁজ মেলেনি। রাজ্যসুদ্ধ মানুষ বিজেপি হয়ে গিয়েছে বলে যে হাওয়া তোলার চেষ্টা হয়েছিল, শুনানির লাইনে তাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। তারই প্রমাণ ‘বাংলাকে বঞ্চনার বাজেট’। অন্তত তৃণমূল সেভাবেই ব্যাখ্যা করছে একে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই রবিবার বলে দিয়েছেন, ‘বাংলায় ওরা এবারও গোহারা হারবে জেনেই বাজেটে কিছু দিল না।’ তাঁর সুর টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘বাংলার নাম একবারও উচ্চারণ করেননি অর্থমন্ত্রী। কেন এই বঞ্চনা? ২০২১’এ হেরেছে বলে? আসলে এবারও যে হারবে, বুঝে গিয়েছে বিজেপি। তাই বাংলার জন্য বরাদ্দ করে কী হবে? এটাই মানসিকতা মোদি সরকারের।’
শিয়রে ভোট। কেন্দ্রীয় সরকার যেহেতু বিজেপির দখলে, তাই বাড়তি অস্ত্র একটা তাদের হাতে থেকেই যায়। উপহারের অস্ত্র। কিন্তু সেই সমীকরণ মিলল না। তৃণমূলের দাবি, মমতার হাতেই সুরক্ষিত থাকবে বাংলা—এই দেওয়াল লিখন পড়ে ফেলেছেন দিল্লি বিজেপির তাবড় নেতারা। তাই কেন্দ্রের বাজেটে বাংলার মানুষকে বঞ্চনা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট পেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্থনীতিবিদ থেকে রাজনীতির কারবারিরা একবাক্যে বলেছেন, বাংলায় ভয়াবহ হারের রিপোর্ট পেয়ে গিয়েছেন বিজেপি নেতারা। তাই কেন্দ্রের উন্নয়নের মানচিত্র থেকে বাদ বাংলা। মোদি সরকারের থেকে বাংলা কী কী পেয়েছে, তার তালিকা দূরঅস্ত। সবটাই এক, দুই, তিনে থেমে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারে ব্যাখ্যা, ‘বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের কোনো আশা নেই, এই বাজেট তার প্রতিফলন। বিজেপি কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে। না হলে ওরা চেষ্টা করত। বিহারের ভোটের আগে ওরা আঁচ পেয়েছিল বলেই এগিয়েছিল।’
বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে তৃণমূল। সেই মাত্রা আরও বাড়বে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বক্তব্য, ‘কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত স্মার্ট! বাজেট নিয়ে বাংলার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নীরবতা প্রমাণ করে, বিজেপি বুঝতে পরেছে তারা বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারবে। তাই বাংলার জন্য টাকা বরবাদ করতে রাজি নয়।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘বিজেপি একদিকে বলছে বাংলা দখল করবে, অন্যদিকে বাংলার প্রতি সবথেকে বেশি বঞ্চনা আর বিমাতৃসুলভ আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। গতবার বিহারকে ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। আর এবার বাংলার জন্য উপবাস।’ সিপিএম পলিটব্যুরো, সিপিআইএমএল লিবারেশন, এসইউসিআই(সি) বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘জনবিরোধী বাজেট।’ যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ‘এটা দূরদর্শিতার বাজেট।’