সন্দীপন দত্ত, মালদহ: প্রচারে তৃণমূলকে নকল করতে শুরু করল বিজেপি! রাজ্যের শাসকদলের উন্নয়নের পাঁচালির আদলে এবার কেন্দ্র এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে মালদহে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছে বিজেপি।
সন্দীপন দত্ত, মালদহ: প্রচারে তৃণমূলকে নকল করতে শুরু করল বিজেপি! রাজ্যের শাসকদলের উন্নয়নের পাঁচালির আদলে এবার কেন্দ্র এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে মালদহে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছে বিজেপি।
দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, অসম, ওড়িশায় বিজেপি সরকার থাকার ফলে সাধারণ মানুষ কী কী সুবিধা পাচ্ছেন, সেটা যেমন তুলে ধরা হচ্ছে, বাংলায় দল ক্ষমতায় এলে কোন কোন কাজ করা হবে, সেসবও বোঝানো হচ্ছে।
গত শনিবার মালদহে এসে সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি রাজ্যের বিরুদ্ধে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু না করার অভিযোগ করেন। বিজেপি সূত্রে খবর, বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ তুলতেই মাঝেমধ্যে অপ্রীতিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে গেরুয়া নেতৃত্বকে। অনেকে মুখের উপর বলছেন, রাজ্য সরকার তো স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিত্সায় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুবিধা দিচ্ছে। আয়ুষ্মানে নতুন কী আছে? জবাব দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বকে।
রাজ্যে ক্ষমতায় এলে গঙ্গা ভাঙনের স্থায়ী সমাধান, আমকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে অন্য মাত্রায় তুলে ধরা, রেশম, পাট শিল্পের উন্নয়ন সহ যুব সমাজের কর্মসংস্থানের পরিধি বৃদ্ধির মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। কিন্তু তাতে যে চিঁড়ে ভিজছে না, তা প্রচার কর্মসূচিতে বিজেপি নেতৃত্বকে ভোটারদের পাল্টা প্রশ্ন করার মধ্যেই স্পষ্ট হচ্ছে।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, মানুষের কাছে গিয়ে বলার মতো কিছুই করেনি বিজেপি। উল্টে নির্বাচন কমিশনকে ‘বি’ টিম বানিয়ে এসআইআরের নামে হয়রান করছে সাধারণ মানুষকে। বিজেপির সাংসদরা রাজ্যের জন্য প্রকল্প আনতে ব্যর্থ। তাই অন্য রাজ্যের গল্প বলে তারা এখানে সুবিধা করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গেই থাকবেন সকলে। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসুর কথায়, বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে তার পরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেন, সারা দেশ প্রথমে তার বিরোধিতা করে। পরে সেটাকেই অনুকরণ করতে বাধ্য হয়।
মালদহে বিজেপির দু’টি সাংগঠনিক জেলা। উত্তর সাংগঠনিক জেলায় রয়েছে চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, গাজোল, মালদহ ও হবিবপুর বিধানসভা। দক্ষিণে ইংলিশবাজার, মানিকচক, সুজাপুর, মোথাবাড়ি ও বৈষ্ণবনগর বিধানসভা।
জেলার এই ১২টি বিধানসভার তিন হাজারের বেশি বুথে এবার ছোট ছোট কর্মসূচি ও বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। বুথস্তরে পথসভা, দেওয়াল লিখন, উঠোন বৈঠকের সঙ্গে চলছে বাড়ি বাড়ি হ্যান্ডবিল দিয়ে প্রচার। দলের জেলা, মণ্ডল, বুথস্তরের নেতা কর্মীরা এই প্রচার চালাচ্ছেন। সেখানে কেন্দ্র এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যের জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
অজয় আরও জানান, কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি এরাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কথাও প্রচারে থাকছে। পাশাপাশি, আয়ুষ্মান ভারত সহ বেশকিছু প্রকল্প থেকে এরাজ্যের মানুষ যে বঞ্চিত হচ্ছেন, প্রচারে এটাও তুলে ধরা হবে।