সংবাদদাতা, কাঁথি: রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হওয়ার পর প্রস্তাবিত দীঘা-জলেশ্বর রেলপথ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি উঠতে শুরু করেছে। মোট ৪২.৬ কিলোমিটার এই প্রকল্প। ওড়িশার অংশের জলেশ্বর থেকে চন্দনেশ্বর পর্যন্ত ৩৪কিলোমিটার অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ বছরখানেক আগে শুরু হয়ে গিয়েছে। বাকি পশ্চিমবঙ্গের অংশে অর্থাৎ চন্দনেশ্বর থেকে দীঘা পর্যন্ত আট কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। বিগত তৃণমূল রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ার কারণেই অধিগ্রহণের কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতাদের। দ্রুত চন্দনেশ্বর থেকে দীঘা পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই প্রকল্পের সফল রূপায়ণ করা হোক, এমনটাই দাবি তুলেছেন পর্যটক মহল সহ দুটি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের আবহে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের কাজে গতি আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, দীঘা-জলেশ্বর রেলপথের দাবি দীর্ঘদিনের। এই প্রকল্পটি ২০১০-১১ আর্থিক বর্ষে অনুমোদন করেছিল রেলদপ্তর। একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপ্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এটি কার্যত ঠাণ্ডাঘরে চলে গিয়েছিল। প্রতিবছর বাজেটে নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ করে প্রকল্পটি বাঁচিয়ে রেখেছিল রেলদপ্তর। তবে নানা টানাপোড়েনের পরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের প্রচেষ্টায় বছরদেড়েকে আগে এই প্রকল্প নতুনভাবে প্রাণ পায়। জলেশ্বর থেকে চন্দনেশ্বর পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইতিমধ্যে চন্দনেশ্বর পর্যন্ত অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এদিকে বিগত তৃণমূল সরকারের কাছে জমি না পাওয়া দীঘা পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়নি। এর আগে রেলমন্ত্রী দীঘা-জলেশ্বর রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারের জমি না দেওয়া ও অসহযোগিতার কারণে প্রকল্প রূপায়ণে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সহযোগিতা পেলে চন্দনেশ্বর থেকে জলেশ্বর কাজ হওয়ার বদলে দীঘা থেকেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হতে পারত। দীঘা পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত না হওয়ায় আপাতত ওড়িশা অংশে কাজ শুরু হয়েছে।
রেলদপ্তরের তরফে জানানো হয়, হাওড়া-ভদ্রক ভায়া পাঁশকুড়া, তমলুক, দীঘা, জলেশ্বর একটি বিকল্প রুট হচ্ছে। হাওড়া-চেন্নাই ব্যস্ত রুটের বিকল্প হিসেবে রুটটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীঘা ও জলেশ্বরকে দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছে রেলমন্ত্রক। দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে হাওড়া ও খড়্গপুর হয়ে যোগাযোগ চালু ছিল। এই রুটটি চালু হলে আগামীদিনে পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষকে দক্ষিণ ভারতে যাতায়াতের জন্য হাওড়া কিংবা খড়্গপুর যেতে হবে না। তাঁরা এই রুটটিকে ব্যবহার করে দক্ষিণ ভারতে ভেলোরে চিকিৎসা করাতে যাওয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবেন। পূর্ব মেদিনীপুর সহ অন্যান্য এলাকার পর্যটকরাও যথেষ্ট লাভবান হবেন।
জলেশ্বর-দীঘা রেলপথ হলে কী উপকার হবে? এই রেলপথ শিবক্ষেত্র চন্দনেশ্বর ও জেলা সদর বালেশ্বরকে একসূত্রে বাঁধবে। এরফলে চন্দনেশ্বর মন্দির, পর্যটন কেন্দ্র তালসারি ও উদয়পুর, ভুষণ্ডেশ্বর মন্দির, বিচিত্রাপুর ম্যানগ্রোভ অভয়ারণ্যের পর্যটনের প্রসার হবে। পর্যটকরা এই সমস্ত জায়গায় সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। স্থানীয় এলাকার পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের সুবিধা হবে। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, বিগত সরকারের অসহযোগিতার জন্য দীঘা-জলেশ্বর রেলপ্রকল্প রূপায়ণ আটকে রয়েছে। নাহলে অনেক আগেই এটি হয়ে যেত। তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, সরকারি উদ্যোগে রেলপ্রকল্পটি রূপায়ণ হবে। এখানে বিজেপি শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযোগ করছে।