নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: এক সময় যাঁদের বাতিল করে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। যাঁদের অভিজ্ঞতার চেয়ে নব্যদেরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। এবার ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’ থিওরির বাস্তব প্রয়োগে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে শুক্রবার বোলপুরে রেলের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে গেরুয়া শিবিরের পুরনো কার্যকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠক। সেখানে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন একদা বীরভূম জেলার বিজেপির দাপুটে নেতা দুধকুমার মণ্ডল, প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল ওরফে অষ্টমের মতো আদি নেতাদের উপস্থিতি। যা দেখে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিধানসভা নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ের আগে বিক্ষুব্ধ ও অভিমানীদের ‘মান ভাঙিয়ে’ ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি। কেষ্ট-গড় বীরভূমে এক সময় যারা তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁদের দূরবিন দিয়ে খুঁজছিলেন দলের কর্মীরা। দলবদলু ও নবাগতদের দাপটে দুধকুমাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, বীরভূমের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা আদি কর্মীদের সরিয়ে নব্যদের হাতে রাশ দেওয়ায় আলগা হয়েছে সংগঠনের ভিত। আদি নেতাদের ব্রাত্য করে রাখায় দলের ক্ষতি হচ্ছে বলে সরব হয়েছেন নিচুতলার কর্মীরা। এদিন সেই অভিমানী শিবিরের ক্ষোভ প্রশমনে বোলপুরে তাঁদের নিয়ে ওই বিশেষ বৈঠক হয়। কিন্তু মান কি ভাঙল? সূত্রের খবর, বৈঠকে দুধকুমার নাকি জানিয়েছেন, পরিবারে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হয়েই থাকে। সেসব কাটিয়ে বিজেপিকে জেতাতে হবে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ আদিদের দলে প্রত্যাবর্তন চান বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁও। সিউড়ির দলীয় অফিসে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘চার্জশিট’ পেশ করার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। সূত্রের খবর, সেখানে সৌমিত্র খাঁকেও বলতে শোনা যায়, ‘পুরাতন কর্মীরাই দলের সম্পদ। কাউকে ছোট করলে হবে না।’ সৌমিত্রর এই মন্তব্য প্রকারান্তরে জেলা বিজেপির ফাটলকেই মান্যতা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিজেপির সঙ্গে দুধকুমারের সমীকরণ বীরভূমবাসীর অজানা নয়। আরএসএস প্রচারক থেকে উঠে আসা এই নেতা ১৯৮৮ সালে প্রথম বার পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির ঝাণ্ডা উড়িয়েছিলেন। কিন্তু ২০২১-এর পর থেকে বারবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এমনকি তাঁকে না জানিয়ে জেলা বা ব্লক কমিটি গড়া নিয়ে প্রকাশ্যেই অনুগামীদের বসে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অভিমানের সুরে তাঁকে এমনও বলথে শোনা গিয়েছে, ‘যখন কেউ ছিল না, তখন আমি ছিলাম। ২০১৮ সালেও যখন সবাই লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। তখন আমি জিতেছি। কিন্তু এখন দলে আমার কোনও গুরুত্বই নেই। কোনও রাজ্য নেতা যোগাযোগ রাখেন না।’



