Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধর্ষিতার পরিবারকে ‘হাইজ্যাক’ বিজেপির, রাত্রিবাস বিতর্কিত পদ্মনেতার বাড়িতে

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ধর্ষিতা ছাত্রীর অভিভাবকদের ‘হাইজ্যাক’ করে নিল বিজেপি। তাঁরা সারাক্ষণ গেরুয়া বাহিনীর ঘেরাটোপে রইলেন। রাত্রিবাস করলেন বিতর্কিত বিজেপি নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে।

ধর্ষিতার পরিবারকে ‘হাইজ্যাক’ বিজেপির, রাত্রিবাস বিতর্কিত পদ্মনেতার বাড়িতে
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ধর্ষিতা ছাত্রীর অভিভাবকদের ‘হাইজ্যাক’ করে নিল বিজেপি। তাঁরা সারাক্ষণ গেরুয়া বাহিনীর ঘেরাটোপে রইলেন। রাত্রিবাস করলেন বিতর্কিত বিজেপি নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তাঁরা যেখানে যেখানে গিয়েছেন, সর্বক্ষণ সঙ্গে ছিল বিজেপি নেতারা। বিজেপির এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অভয়া মঞ্চ, ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকরা। দুর্গাপুরের শোভাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের বাগযুদ্ধ হয়। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, বিজেপি নেতারা কোনওভাবেই পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কথা বলতে দিচ্ছে না। 

Advertisement

এদিন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চেয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু তাঁদের দেখা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী। একইভাবে নির্যাতিতার বিচার চেয়ে মেডিকেল কলেজে আসা একাধিক চিকিৎসক সংগঠনকে মেয়েটির ধারেকাছে যেতে দেওয়া হয়নি। তারাও হাসপাতাল চত্বরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। অন্যদিনের মতো আজও বিজেপি বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলতে হাসপাতালে আসেন। তিনিও দেখা করতে না পেরে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার প্রতিবাদে দুর্গাপুরের পিয়ালা মোড়ের কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি। লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই ও এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর নেতৃত্বে ৪০ মিনিট ধরে জাতীয় সড়ক অবরোধের পর বিজেপি নেতানেত্রীদের ভ্যানে তুলে সড়ক অবরোধ মুক্ত করে পুলিশ। 
রবিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য একান্তে পাওয়া গিয়েছিল নির্যাতিতার বাবাকে। তিনি শোভাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমার্জেন্সির সামনে বসেছিলেন। তিনি বলেন, এক কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ফিজ দিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছি মেয়েকে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আশি লক্ষ টাকা নিয়ে নিয়েছে। তাও এই কলেজে মেয়েকে আর পড়াব না। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ওড়িশায় আমার মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্যাতিতার বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকে বিজেপি নেতৃত্ব আমাকে সহযোগিতা করছে। বিজেপি নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের ফোন থেকে বিরোধী দলনেতা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর বাড়িতে আমি রাত্রিবাস করেছি। তিনি এও জানান, পুলিশ কমিশনারও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। দোষীদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা না বলায় উষ্মা প্রকাশ করেন। 
দুর্গাপুরের বিজেপি নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য। কয়েক মাস আগেই গোরু নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধ’-এ কয়েকজন নিরীহ চাষিকে শারীরিক হেনস্তা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে জামিন পান পারিজাত। পরবর্তীকালে তাঁকে বিজেপি নেতারা সংবর্ধনা দেয়। পারিজাত বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। নির্যাতিতার বাবা নিজেকে সুরক্ষিত মনে করছিলেন না। দেশবাসী হিসেবে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া আমার কর্তব্য বলে মনে করি। তাই আমার বাড়িতে তাঁকে রেখেছিলাম।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, এই নক্ক্যারজনক ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দিতেই হবে। প্রশাসন সেই কাজ নিশ্চিতভাবে করছে বলে আমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলতে পারি। বাংলা রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য বিজেপি এই ধরনের ঘটনাকে রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে আসছে। বাংলার মানুষ তাদের বিভ্রান্তিকর রাজনীতির ছক বারবার ভেস্তে দিয়েছে এবারও দেবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ