Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মোদির মধ্যস্থতায় রাজ্যে ভারী শিল্পে লগ্নি টানতে মরিয়া বিজেপি সরকার

বাংলায় ভারী ও উৎপাদন শিল্পের খরা কাটাতে বাড়তি সক্রিয় হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পসহ এখনো রাজ্যের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মন্ত্রীহীন। সেই আবহে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন। লক্ষ্য দেশি-বিদেশি লগ্নির গন্তব্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গকে তুলে ধরা।

মোদির মধ্যস্থতায় রাজ্যে ভারী শিল্পে লগ্নি টানতে মরিয়া বিজেপি সরকার
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলায় ভারী ও উৎপাদন শিল্পের খরা কাটাতে বাড়তি সক্রিয় হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পসহ এখনো রাজ্যের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মন্ত্রীহীন। সেই আবহে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন। লক্ষ্য দেশি-বিদেশি লগ্নির গন্তব্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গকে তুলে ধরা। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ইতিবাচক সুফল রাজ্যবাসীকে উপহার দিতে শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগকেই পাখির চোখ করেছেন ভবানীপুরের বিধায়ক। সবকিছু ঠিক থাকলে দুর্গাপুজোর পরই কলকাতায় বসতে চলেছে আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বিশ্বমানের শিল্পপতিদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন রাজ্য সরকারের। 

Advertisement

সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই রেল ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ইস্যুতে শুভেন্দুবাবুকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ‘টেক জায়েন্ট’ গুগল। ভারতীয় বংশোদ্ভব সংস্থার কর্ণধার সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে বাংলায় বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলেছেন বৈষ্ণব। পশ্চিমবঙ্গে গুগলের ‘টেক হাব’ গড়ার বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে। পাশাপাশি অশোকনগরে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার কিংবা এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ কয়লাখনি দেউচা-পাচামি নিয়েও আশাবাদী রাজ্য। এই ধরনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ও সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শেষবার রাজ্যে শিল্পে লগ্নি টানতে সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু লালপার্টির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পের কফিনে পেরেক পুঁতে দিয়েছিল। পরিণামে দেশের শিল্পমহল নিজেদের গন্তব্যের তালিকা থেকে বাংলাকে এতদিন ব্রাত্যই রেখেছিল। ওই নেতার দাবি, শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্পে বড়ো অঙ্কের বিনিয়োগ চাই। রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পক্ষেত্রে সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বার্তা দেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ নীতি, লগ্নিকারীদের ইনসেনটিভ, অনুসারী শিল্পের প্রসার, সরকারি অনুমোদনে এক-জানালা পদ্ধতিসহ একগুচ্ছ ব্যবস্থায় বদল আসছে। 
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটপ্রচারে এসে শিল্পে পশ্চিমবঙ্গের হতশ্রী দশার চিত্র বারবার তুলে ধরেছেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তার সার্বিক বদল হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মোদির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে এবার বঙ্গে লগ্নিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট শুভেন্দু অধিকারী। তাজপুর বন্দর, সাগরসহ বিভিন্ন বড়ো মাপের প্রকল্পে আগের সরকারের উদাসীনতা ছিল বলে অভিযোগ। আদানি গোষ্ঠীর মতো সংস্থা কয়েকটি ক্ষেত্রে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ক্ষমতার পরিবর্তনে অসমাপ্ত একাধিক প্রকল্প এবার দিনের আলো দেখতে পারে বলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, মোদি-শাহের নির্দেশে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের মন্ত্রী ও সচিবরা বাংলায় সরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসক দলের দুই ‘মুখিয়া’ বার্তা দিলে কর্পোরেট জগৎ বাংলায় টাকা ঢালতে আগ্রহী হবে বলেই দৃঢ় মত ওয়াকিবহাল মহলের। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ