সাগর রজক, মানিকচক: মানিকচকে বামফ্রন্টের দলীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে বিজেপির ঝান্ডা লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি সিনহার নেতৃত্বে রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে মানিকচক থানায়। এলাকাকে উত্তপ্ত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বিজেপির এই চক্রান্ত বলে অভিযোগ। যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। তার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মানিকচক। মানিকচক ব্লক সদরে বামেদের মূল দলীয় কার্যালয় হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি সিনহার সমর্থনে প্রচারে ছিলেন বামকর্মীরা। তাই দলীয় কার্যালয় তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। রাতে বামকর্মী ক্ষুদিরাম মণ্ডল দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলতে এসে দেখেন মূল গেটে বিজেপির ঝান্ডা লাগানো। যা দেখা মাত্রই তিনি মোবাইলে ছবি তুলে ফোন করেন দলীয় নেতৃত্বকে। ঘটনা শোনামাত্রই দলীয় কার্যালয়ের রওনা দেন সিপিএম প্রার্থী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। এর মাঝেই বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডলের এক ছায়াসঙ্গী বিজেপির ঝান্ডা খুলতে এলে বচসা হয়। তা সত্ত্বেও ঝান্ডা খুলে মাটিতে ফেলে সেখান থেকে চম্পট দেয় সেই বিজেপি কর্মী। পরবর্তীতে সিপিএম প্রার্থী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত হয়। এরপর দলীয় কার্যালয় থেকে মানিকচক থানা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মানিকচক থানার সামনেও আধ ঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। বামেদের একটি প্রতিনিধি দল আইসি’র সঙ্গে কথা বলে শেষে মানিকচক থানায় বিজেপির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করে। সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, ৩৪ বছর বাম শাসন করেছে। ১৫ বছর তৃণমূল। কিন্তু কোনোদিন কারও ক্ষমতা হয়নি এভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয়ের মূল গেটে ঝান্ডা লাগানোর। বিজেপির এই কালচার দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা নির্বাচনের মধ্যে এলাকাকে উত্তপ্ত করতে ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই সমস্ত ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুলিশে অভিযোগ জানালাম। তারপরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না। বিজেপির মানিকচক মণ্ডল সভাপতি সুভাষ যাদব বলেন, কোনো বিজেপি নেতা বা কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।



