অভিষেক পাল, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির প্রার্থী তালিকায় কোনো সংখ্যালঘু মুখ নেই! সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় আসন বের করে আনতে যে ধরনের প্রার্থী চাই, সেটা খুঁজে পেতেই হিমশিম খেল গেরুয়া শিবির। বাধ্য হয়ে অবশেষে ২২ আসনেই সংখ্যালঘু প্রার্থী ছাড়াই তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে। অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির। যদিও জেলা নেতৃত্বের সুপারিশে রাজ্য প্রার্থী বাছাই করেছে বলেই দাবি পদ্মের নেতাদের। অর্থাৎ, জেলার নেতারা যে নাম দিয়েছে সেই নামেই সিলমোহর পড়েছে। ফলে দলের নেতারাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করেনি। তাতে সংখ্যালঘু মোর্চার নেতারা ক্ষিপ্ত। সবমিলিয়ে গেরুয়া শিবিরে গোষ্ঠী কোন্দল চরমে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা সকলে উজ্জ্বীবিত। কারণ যেখান থেকে যাঁদেরকে প্রার্থী হিসেবে চাওয়া হয়েছে, তাঁরা সকলেই প্রার্থী হয়েছেন। আমাদের জেলা থেকে করা সুপারিশমতো সকলেই প্রার্থী হয়েছেন। কারও ব্যক্তিগত বেশি ভালো লাগা খারাপ লাগা এসব আছে। কিন্তু আমার এখানে অধিকাংশ জায়গায় কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভ নেই।’ বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ‘দল যোগ্যদেরই প্রার্থী করেছে। আমরা মুর্শিদাবাদ জেলার অধিকাংশ আসনেই জিতব। সংখ্যালঘু প্রার্থী না করেও সংখ্যালঘু উন্নয়ন করা যায়। এবার রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকার দূর হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।’
সংখ্যালঘু সেলের নেতাদের অবশ্য দাবি, কয়েকজন সংখ্যালঘু নেতাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা সেই মতো প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় তাঁদের ঠাঁই হয়নি। এটাই বিজেপির সমস্যা। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। সংখ্যালঘু মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্তত কয়েকটি আসনে সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী করলে বিজেপি লড়াইয়ে থাকত। কিন্তু কিছু কিছু আসনে এমন লোকজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যাঁদের জনসংযোগ কম।’
এবার, যে সবআসনে বিজেপি জোরদার ফাইট দেওয়ার অবস্থায় ছিল, সেখানেই বহিরাগত প্রার্থীদের নিয়ে আসা হয়েছে। যা নিয়ে দলের একাংশ প্রকাশ্যে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কেউ কেউ পার্টি অফিসের সামনে ঝান্ডা হাতে ধরেই প্রার্থীদের মানা হবে না বলে বিক্ষোভ দেখান। খড়গ্রাম, বড়ঞা, জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জ আসনে প্রার্থী পছন্দ নয় বলে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ আন্দোলন হচ্ছে। কানদি এবং ভরতপুরেও প্রার্থী বহিরাগত বলে দলের কর্মীরাও অসন্তুষ্ট। সার্বিকভাবে যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার সকালে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার তরফ থেকে প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থী নিয়ে কারোর কোনো ক্ষোভ নেই জানানো হলেও নীচুতলার কর্মীরা নেতাদের কথা শুনতে নারাজ।
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার ডেভিড বলেন, ‘কোন দল কাকে প্রার্থী করবে, সেটা সেই দলের সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে গুরুত্ব দেন। আমরা দলের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো বিভেদ দেখি না। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় আমরা সমস্ত সম্প্রদায়কেই প্রাধান্য দিই। এবারও দিয়েছি।’