নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এসআইআরের পক্ষে গলা ফাটিয়েছে বিজেপি। কিন্তু বাস্তবের ময়দানে তাদের মুখে জগৎ মেরে দেওয়ার বিষয়টি বেআব্রু করে দিচ্ছে সেই এসআইআর। বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব এসআইআরের জন্য পর্যাপ্ত বিএলএ-২ নিয়োগ করতেই পারেনি। তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ১০০ শতাংশ বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করে দিয়েছ। অথচ একশো শতাংশ বুথস্তরের এজেন্ট জোগাড় করতে গেরুয়া পার্টির নাকের জলে চোখের জলে হয়ে যাচ্ছে। শেষপর্যন্ত সব বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করা যাবে না, নেতৃত্ব নিশ্চিত।
নির্বাচন কমিশনের কর্মী বিএলও। আর তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মী বা বুথস্তরের এজেন্ট (বিএলএ-২) রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই কর্মীরা যোগ্য ভোটার ও অযোগ্য ভোটারের বিশ্লেষণ পদ্ধতি দেখতে পারব। অর্থাৎ নজরদার। হুগলি সাংগঠনিক জেলার সমস্ত বুথে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সেই নজরদার নিয়োগও করতে পারেনি গেরুয়াপার্টির কর্তারা। এনিয়ে অবশ্য নেতৃত্বের তরফে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা মিলেছে। কিন্তু দলের প্রবীণ নেতাকর্মীরা বলছেন, মুখ্য সমস্যা কর্মীর অভাব। সেই কারণেই পর্যাপ্ত বিএলএ-২ নিয়োগ করা যায়নি। দলের হুগলি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সিংহভাগ বিএলএ-২ নিয়োগ করে দিয়েছি। আরও বেশকিছু নাম দ্রুত পাঠানো হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া খুব পরিকল্পিতভাবে করতে হচ্ছে। তাই সময় লাগছে। পাশাপাশি, তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ভয় দেখাচ্ছে। তাতেও কিছু সমস্যা হয়েছে। তৃণমূলের হুগলি সাংগঠনিক জেলার চেয়ারপার্সন অসীমা পাত্র বলেন, মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে বিজেপি এসআইআর করছে। সেই কারণেই বিজেপি কর্মীরাও এসআইআরের তত্ত্বাবধায়ক হতে চাইছেন না। বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আছে মানুষ নেই। তাই রাজনৈতিক কাজেও লোক জুটছে না।
হুগলি সাংগঠনিক জেলায় ২০৪৮টি বুথ আছে। সেখানে বিজেপি বৃহস্পতিবার কিছু সংখ্যক বিএলএ-২ নিয়োগ করার পরে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৭৬৫। দলের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে সিংহভাগকেই শূন্যস্থান পূরণের চাপে বিএলও করতে হয়েছে। এলাকায় নিবিড় যোগাযোগ আছে এমন কর্মী খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে, ওই সংখ্যক বিএলএ-২ বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কতটা পূরণ করতে পারবে সন্দেহ আছে। আরও জানা গিয়েছে, এসআইআর শুরুর আগেই বিজেপি তালিকা তৈরি ছিল। তখনই প্রায় ৪০ শতাংশ বিএলএ-১ এবং বিএলএ-২ -এর নাম বিজেপি প্রশাসনকে দিয়েছিল। সেই সময় পর্যন্ত তৃণমূল মাঠেই নামেনি। শেষপর্যন্ত তৃণমূল একদফাতেই ১০০ শতাংশ বিএলএ-২ -এর বহর তৈরি করে দেয়। কিন্তু তারপরে গেরুয়া পার্টি আর এগিয়ে যেতে পারেনি। ফলে এসআইআর নিয়ে আস্ফালন থাকলেও তার প্রয়োগে গেরুয়া পার্টি কার্যত উধাও।