Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরে যুব মোর্চার কমিটি ঘিরে পদ্ম শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

বোলপুরে যুব মোর্চার কমিটি নিয়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে। শম্ভুনাথ রায়ের বক্তব্য ও কাঞ্চন ঘোষের অভিযোগের বিস্তারিত জানুন।

বোলপুরে যুব মোর্চার কমিটি ঘিরে পদ্ম শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরও বোলপুর সাংগঠনিক জেলায় গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামছে না। কখনও প্রার্থী নির্বাচন, কখনও সংগঠন পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এবার যুব মোর্চার বোলপুর টাউন কমিটির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Advertisement

কয়েকদিন আগে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি শম্ভুনাথ রায় বোলপুর টাউন যুব মোর্চার একটি কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকায় সভাপতি, সম্পাদক সহ একাধিক পদাধিকারীর নাম প্রকাশ করা হয়। এই তালিকা প্রকাশের পরই রবিবার রাতে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির বোলপুর শহর মণ্ডল সভাপতি কাঞ্চন ঘোষ। তিনি দাবি করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে তালিকা ঘুরছে, তা ভুয়ো। তিনি বলেন, টাউন যুব মোর্চার সভাপতি ঠিক করার অধিকার মণ্ডল সভাপতির। এছাড়া দলের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কমিটির তালিকা প্রকাশের আগে জেলা সভাপতি ও যুব মোর্চার সভাপতির স্বাক্ষর এবং সিল থাকতে হয়। এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই তিনি অভিযোগ করেন। কাঞ্চন ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, তালিকায় সভাপতি হিসেবে সৌরভ বাগদি এবং সম্পাদক হিসেবে মিনি সামন্তের নাম রয়েছে। এই মিনি সামন্তর সঙ্গে তৃণমূল নেতা কাজল শেখের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে কটাক্ষ করেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি বিনয় ঘোষ। কাঞ্চন ঘোষ বলেন, আমি দীর্ঘদিন মণ্ডল সভাপতি। চার তারিখের আগে এঁদের কাউকেই সক্রিয়ভাবে দেখিনি।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে অভিযোগের জবাব দেন যুব মোর্চার বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শম্ভুনাথ রায়। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে জানান, মিমি সামন্ত ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই বোলপুর যুব মোর্চার সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ের অনুমোদিত নথিও তিনি ছবি সহ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দাবি করেন, বিজেপি করার কারণেই অতীতে মিনি সামন্তের বাড়ি ও গাড়িতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছিল এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শম্ভুনাথ রায় আরও লেখেন, তিনি দলের আদর্শ মেনেই কাজ করেন এবং কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ না বাড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
সমগ্র ঘটনা নিয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, দল যাঁদের দায়িত্ব দেয়, তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হয়। তবে সেই কাজ অবশ্যই দলের গাইড লাইন মেনে করতে হবে। কোথাও বিভ্রান্তি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, যুব মোর্চা আলাদা কোনো সংগঠন নয়। বিজেপির সাতটি মোর্চার একটি মাত্র। সবকটি মোর্চাই দলের অংশ। কোনো পদাধিকারীর বিভ্রান্তি থাকলে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই তা মিটিয়ে নেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ