Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাতাসে আর নেই বারুদের গন্ধ, শান্ত সিতাইয়ে ক্রমশ ফিকে গেরুয়া প্রভাব

বছর কয়েক আগেও একটা সময় ছিল যখন সিতাইতে সন্ধ্যা নামলেই বোমাবাজির আওয়াজে কান পাতা দায় হয়ে পড়ত। কোনো রাতে এক পাড়ায় বোমাবাজি হলে, পরের রাতে অন্য মহল্লায় বোমা পড়ত।

বাতাসে আর নেই বারুদের গন্ধ, শান্ত সিতাইয়ে ক্রমশ ফিকে গেরুয়া প্রভাব
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: বছর কয়েক আগেও একটা সময় ছিল যখন সিতাইতে সন্ধ্যা নামলেই বোমাবাজির আওয়াজে কান পাতা দায় হয়ে পড়ত। কোনো রাতে এক পাড়ায় বোমাবাজি হলে, পরের রাতে অন্য মহল্লায় বোমা পড়ত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বাতাসে নেই বারুদের গন্ধ। সিতাইতে ক্রমশ গেরুয়া প্রভাব ফিকে হতেই এই পরিবর্তন বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। 

Advertisement

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিধানসভা সিতাই। এর একদিকে ছুঁয়ে আছে দিনহাটা বিধানসভা। সিতাইয়ের পাশাপাশি দিনহাটারও কিছু অঞ্চলে বোমাবাজি, গুলির খবর পুলিশকে ব্যতিব্যাস্ত করে তুলত। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলির সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে বলতে শুরু করেছিল, আর হয়তো কোনো দিনই সিতাই-দিনহাটায় শান্তি ফিরবে না। 
ঠিক এই আবহেই গত লোকসভা নির্বাচন হয়। ফল ঘোষণা হতেই দেখা যায় বিজেপি প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। জয়ী হন তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তিনি জয়ী হওয়ার পর সিতাই বিধানসভার উপ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ও বোমাবাজি, গোলাগুলির তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আবার সামনে বিধানসভা ভোট। তার আগে এখনও পর্যন্ত সিতাই, দিনহাটায় অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যায়নি। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, যে সিতাই-দিনহাটাকে একসময় উপদ্রুত অঞ্চল বলে মনে হত সেখানে এখন পরিস্থিতি শান্ত। নির্বাচন আসবে, নির্বাচন যাবে। রাজনৈতিক লড়াই হবে। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের দাপটে এলাকায় এলাকায় মানুষের প্রাণ যাবে, আহত হবে, একটা সভ্য সমাজে বেশিদিন তা চলতে পারে না। 
সীমান্তবর্তী এই দুই এলাকায় হঠাৎ করে বোমাবাজি, গুলির মতো ঘটনা কমে গেল কি করে? এই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের সাফ জবাব, লোকসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের হারের পর থেকেই এই ধরনের ঘটনা কমে গিয়েছে। কোনোভাবেই যাতে বোমা-গুলির সংস্কৃতি আর স্থান না পায় সেদিকে তারা সজাগ দৃষ্টি রাখছে। যদিও বিজেপির দাবি, সিতাইতে সন্ত্রাসের আবহ রয়েছে। বিজেপি মিটিং-মিছিল করতে পারছে না। 
সিতাইয়ের বাসিন্দা তথা কোচবিহারের এমপি জগদীশচন্দ্র বলেন, শুধু সিতাই কেন, গোটা কোচবিহারে এখন আর বোমার আওয়াজ শোনা যায় না। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এটা হয়েছে। ওসব বিজেপির আমদানি করা সংস্কৃতি ছিল। ওরা পরাজিত হতেই মানুষ শান্তিতে আছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, যেদিন লোকসভায় বিজেপি পরাজিত হল সেদিন থেকে দিনহাটায় আর কোনো বোমের আওয়াজ নেই। 
যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, তৃণমূলের দাবি হাস্যকর। সিতাই, দিনহাটায় এখনো সন্ত্রাস চলছে। ওখানে আমাদের মিটিং-মিছিল করতে দিচ্ছে না। আমরা রাস্তায় নামলে আমাদের রুখতে ওরা অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ