শাখারভের বিজয় মিছিলে দেখা যায়নি বিজেপির জেলা সভাপতিকে, গুঞ্জন শাসকদলের অন্দরে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রত্যাশিত জয়। শুক্রবার সকাল থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গেরুয়া আবির, পদ্মের মালা হাতে ফল ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। রেজিনগর উপনির্বাচনে শাখারভ সরকারের জয়ের পর তাঁরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। কিন্তু, খোদ দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজনকে সেখানে দেখা যায়নি। এমনকি, নির্বাচন চলাকালীন তাঁকে সেভাবে প্রচারেও নামতে দেখা যায়নি। এনিয়ে দলের অনেক কার্যকর্তার মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Advertisement

তবে শনিবার মহালয়ার সকালে রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জেলা সভাপতি মলয় মহাজন ও বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেখানে রেজিনগরের জয়ী প্রার্থী শাখারভকে দেখা যায়নি। এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাখারভবাবু বলেন, সাংবাদিক সম্মেলন যখন ডাকা হয়েছিল, তখন আমাকে জানানো হয়নি। আর ভোটের ফলপ্রকাশের পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিজয় উৎসবে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। তাই এখন আলাদা করে শুভেচ্ছা জানানোর কিছু নেই। রেজিনগরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমার প্রধান কাজ। দলের যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, যাঁরা করেননি, সবাইকে এই জয়ের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের মার্জিন যে ৭৫হাজারের বেশি হবে, তা বিজেপির ভোটকুশলী নেতারাও কল্পনা করতে পারেননি। ৭০শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে পদ্ম ফোটানো বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। সেখানে ৬৩.১৪শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক মার্জিনে জয়লাভ করেন বিজেপির শাখারভ। কিন্তু, গণনাকেন্দ্র থেকে শুরু করে বিজয় মিছিল-কোথাও একবারও দলের জেলা সভাপতির দেখা মেলেনি। এমনকি, যে বহরমপুরে ভোটগণনা ও বিজয় মিছিল হল, সেখানকার বিধায়ককেও শুক্রবার রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়নি।
বিজেপি প্রার্থী ১লক্ষ ২৯হাজার ৯১৪টি ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবি আজাদ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৪ হাজার ৯৮। তিনি প্রাপ্ত ভোটের ২৬.২৯শতাংশ পেয়েছেন। তিন শতাংশ অর্থাৎ ৬১৬৮টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি। চতুর্থ স্থানে মমতা তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী ৩৮৪৭ভোট পান। ৩৭৯৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন সিপিএমের মহম্মদ সাইদ। মাত্র ২০৪৪টি ভোট পেয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সফিউজ্জামান শেখ ষষ্ঠ হয়েছেন। তিনি এক শতাংশ ভোটও পাননি। নোটায় ৫৯৪টি ভোট পড়েছে।
গেরুয়া-ঝড়ে বিরোধীরা কার্যত উড়ে গিয়েছে। পালাবদলের পাঁচমাসের মাথায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রেজিনগরে বিজেপির বিধায়ক হলেন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সভাপতি মলয়বাবু বলেন, মূলত কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়েছে। যারা এতদিন আমাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। বিধায়ক সুব্রত মৈত্রর গলাতেও একই সুর শোনা গেল। তবে বিজয় মিছিলে শাখারভের অনুপস্থিত থাকা নিয়ে দু’জনই নীরব ছিলেন।