নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: গৃহস্থের বাড়ি জবরদখল করে কৃষ্ণনগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার দলীয় কার্যালয় করার অভিযোগ। আদালতের নির্দেশে বুধবার সেই বাড়ি দখলমুক্ত করতে গেলে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এদিন বেলার দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর শহরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে বাড়ি দখলমুক্ত করতে চাইলে বিজেপির তরফে বাধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় বিজেপি নেতৃত্বের। বিজেপির নেতা-কর্মীরা রাস্তার উপর ধরনায় বসেন। বিকেল পর্যন্ত সেই ডামাডোল চলে। অবশেষে, কোতোয়ালি থানার পুলিশকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেত হয়।
কৃষ্ণনগরের উকিলপাড়ার রজনী মুখার্জি লেনে অবস্থিত নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা ভারতীয় জনতা পার্টির দলীয় কার্যালয়। যাকে কেন্দ্র করে জবরদখলের অভিযোগ ঘিরে নয়া বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এক গৃহস্থের বাড়ি দখল করেই ওই পার্টি অফিস গড়ে তোলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাড়িটির মালিক গৌতম সরকার চাকরিসূত্রে উত্তরবঙ্গে বসবাস করতেন। ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৫ বছর আগে বিজেপি নেতারা বাড়িটি জবরদখল করে দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেন। বাড়ি দখলমুক্ত করতে ২০১১ সালে মালিকপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করে।
আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। গত বছরের ৬ মে’র মধ্যে বাড়ি খালি করতে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, সেসময় আদালতের কর্মী ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে বিজেপি কর্মীরা বাধা দেন। পরবর্তীতে বিজেপি নেতৃত্ব ঘর খালি করার জন্য কিছুদিন সময় চায় এবং স্থগিতাদেশের আবেদন করে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সেই স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে আগের উচ্ছেদ নির্দেশ বহাল রাখে। বুধবার আদালতের নির্দেশে বিশাল পুলিশ বাহিনী জবরদখলমুক্ত করতে গেলে আবারও বাধার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আদালত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেও বিকেল পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
যদিও নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘যিনি পার্টি অফিস দখল করতে আসছেন, তাঁর দাদু আমাদের এখানে অফিসটি বানানোর অনুমতি দিয়েছেন। এই ঘর আমরা নিজেদের টাকায় বানিয়েছি। ১৯৮০ সাল থেকে এই পার্টি অফিসে আমরা রয়েছি। তাঁরা বুধবার আসছেন, এব্যাপারে আমাদের কিছু জানা ছিল না। জেলা জজ যেহেতু এসআইআরের কাজে চলে গিয়েছেন, তাই এটি পেন্ডিং রয়েছে। আমরা এব্যাপারে আদালতে মুভ করেছি।’
বাড়ির মালিকের জামাই সঞ্জীব সাহা বলেন, ‘এটি আমার শ্বশুরের বাড়ি। উচ্ছেদের বাস্তবায়নের নির্দেশ এসেছিল। সেইজন্যই আমরা এসেছি। বিজেপি গতকাল আদালতে পিটিশন দিয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ হয়েছে। হাইকোর্টেও রিজেক্ট হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমরা বাড়ি ফিরে পাচ্ছি না। আগে জায়গাটা ফাঁকা ছিল। শ্বশুরমশাই চাকরিসূত্রে উত্তরবঙ্গে থাকতেন। তখন বিজেপি এই জায়গাটি দখল করে নেয়। আমরা মামলা করেছিলাম। তাতে আমরা জিতেছি।’
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশ পালন করেছি। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সারাদিন সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।