অভিষেক পাল, নওদা: স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও মুর্শিদাবাদের মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এর জন্য দায়ী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম প্রচারে মুর্শিদাবাদের নওদাতে এসে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই নির্বাচন মুর্শিদাবাদ থেকে গদ্দারদের চিহ্নিত করে তাদের বিতাড়িত করার নির্বাচন। বিজেপি তিনটে এজেন্সিকে এই জেলায় কাজে লাগিয়েছে। প্রথম এজেন্টকে দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত করেছিলাম। তিনি অধীর চৌধুরী। দ্বিতীয় এজেন্ট হুমায়ুন কবীর। তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের ভ্যানিশ কুমার। যিনি মানুষের ভোটের তালিকা থেকে নাম কাটছেন।’
এদিন বক্তব্যের শুরু থেকেই বিজেপি ও কমিশনকে বিঁধতে সুর সপ্তমে তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি বিধানসভায় হাজার হাজার মানুষকে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। ভ্যালিড ডকুমেন্টস থাকার পর, ম্যাপিং হয়ে যাবার পরও অনেক লোকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাইবুনাল তৈরি হচ্ছে। আপনারা সবাই আবেদন করবেন। আপনাদের ভোটাধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছেন। যাঁরা এবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটটা দেবেন তাঁরা মাথায় রাখবেন, মুর্শিদাবাদ এবং এই নওদায় আমাদের উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে। রাজ্য সরকার যে উন্নয়নের কাজ করে চলেছে, সেই কাজে ১০ পয়সাও কেন্দ্র দিচ্ছে না। গরিব মানুষের টাকা ওরা আটকে রেখেছে। আপনাদের বন্ধু হয়ে ধর্মের নাম করে আজকে যারা ভোট চাইতে আসছে তারা গত পাঁচ বছরে এই গরীব মানুষের টাকা আদায়ের জন্য একটা বৈঠক কিংবা একটা চিঠি লিখেছেন?
এদিন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি নিয়েও সরব হন তৃণমূলের সেনাপতি। তিনি বলেন, বিজেপি জয় শ্রীরামের নামে ভোট চাইছে। হুমায়ুনরা মসজিদের নামে ভোট চেয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আমি মন্দির মসজিদের রাজনীতি বাড়িতে করব। আমি যখন মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তখন আমার কোনো ধর্ম নেই। আমার একটাই ধর্ম, মানব ধর্ম। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে কারোর মনে হল বাবরি মসজিদ করতে হবে মুর্শিদাবাদে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল। ২০১৯ সালে যখন তিনি যখন বিজেপির প্রার্থী হলেন তখন তাঁর বোধদয় হল না যে, বাবরি মসজিদ করতে হবে। যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল এই হুমায়ুন এখন তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এঁদের একটা ভোট দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে বিজেপি এবং মোদিকে ভোট দেওয়া।
এদিন রঘুনাথগঞ্জে রামনবমীর মিছিল থেকে তাণ্ডব নিয়ে মুখ খোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, গত দু’দিন আগে রামনবমীর নাম করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাজ্য পুলিশের ডিজি, আইজি, এডিজি, ডিআইজি, এসপি থেকে শুরু করে সমস্ত আধিকারিকদের বদলে দিয়েছে। মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবকে পাল্টে দিয়েছে। যাতে বিজেপির জল্লাদদের অশান্তি পাকাতে সুবিধা হয়। যাঁরা লাঠি, তরোয়াল, দা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় রামনবমী করছেন, তাঁরা আর যাই হোক কোনদিন প্রভু রামের ইতিহাস পড়েনি। এই বাংলা রক্ত দিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভাতৃত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা
করবে। -নিজস্ব চিত্র