Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বামেদের ঘরে ফেরা রুখতে মরিয়া বিজেপি, ভোট-মাঠে ত্রিপুরার প্রাক্তন কমরেডরাও

নিজেদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। তাই হাল ফেরাতে বাম ভোটের উপরই ভরসা করতে চাইছে বিজেপি। কোথাও তাদের সেভাবে আক্রমণের পথে হাঁটছে না।

বামেদের ঘরে ফেরা রুখতে মরিয়া বিজেপি, ভোট-মাঠে ত্রিপুরার প্রাক্তন কমরেডরাও
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: নিজেদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। তাই হাল ফেরাতে বাম ভোটের উপরই ভরসা করতে চাইছে বিজেপি। কোথাও তাদের সেভাবে আক্রমণের পথে হাঁটছে না। উল্টে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তোষামোদের চেষ্টা চালাচ্ছে। ত্রিপুরার বাংলাভাষি প্রাক্তন ‘কমরেড’দের তারা ময়দানে নামিয়েছে। তাঁরা সরাসরি জেলায় গিয়ে কাজ করছেন। বামমনস্ক লোকজনদের ফোন নম্বর বিজেপির স্থানীয় নেতারা আগেই সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের ত্রিপুরার নেতারা ফোন করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেরা তাদের হারানো ভোটের অর্ধেক ফিরে পেলে বাংলায় বিজেপির কী হাল হবে, সেটা গেরুয়া শিবিরের নেতারা ভালই জানেন। তাই দলের আদি নেতাদের থেকেও তাদের কাছে এখন অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে বাম শিবিরের লোকজন। নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় তাঁরা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন। 

Advertisement

বিজেপির এক নেতা বলেন, বিভিন্ন রাজ্য থেকেই সংগঠনের লোকজন এসেছেন। ত্রিপুরার ২০-২৫জন প্রাক্তন সিপিএম নেতাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরা ফোনে সেরাজ্যের হাল বোঝানো হচ্ছে। সেখানে সবই ‘পজিটিভ’ বলে বোঝানো হচ্ছে। 
বামেরা ২০১৬ সালের মতো এবার ভোট পেলে অনেক অঙ্ক বদলে যাবে। সেবারের নির্বাচনেও বামেরা বহু বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৮-৪০শতাংশ ভোট পেয়েছিল। যেমন, মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬ সালে বামেদের ভোট ছিল ৪১.৯৯ শতাংশ। বিজেপি পেয়েছিল ৭.৪৮ শতাংশ। পরের নির্বাচনে বামেদের ভোট ১১.৭১ শতাংশে নেমে আসে। বিজেপির ভোট বেড়ে হয় ৩৭.৩৭ শতাংশ। খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের ছবিটাও একইরকম। ২০১৬ সালে বামেরা এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৫২.১১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। বিজেপির ভোট ছিল মাত্র তিন শতাংশ। পরের নির্বাচনে ম্যাজিকের মতো সবকিছু বদলে যায়। বিজেপি ৩৮.২৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে। বামেদের ভোট ১০শতাংশে নেমে আসে। এভাবে অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে সব হিসেব বদলে গিয়েছিল। বিজেপি সেকারণেই বাম কর্মীদের ‘জামাই আদর’ শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই এমনটা চলছে। 
যদিও সিপিএমের দাবি, ভোটারদের মোহভঙ্গ হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির জেরে মানুষ নাজেহাল। কেন্দ্রীয় সরকার দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তাই আগের ভুল আর বাম কর্মীরা করবেন না বলেই নেতারা মনে করছেন। আউশগ্রামের সিপিএম প্রার্থী চঞ্চল মাঝি বলেন, বাম কর্মীরা বিজেপি বা তৃণমূলকে ভোট দেবে না। যারা ভুল করে ওদের দিকে গিয়েছিল তারা ফিরে এসেছে। সেকারণেই প্রচারে এত উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। 
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি ভাবছে, বহিরাগত নেতাদের নিয়ে এসে বিশাল কিছু করে ফেলবে। এই ধারণা ওদের ভুল। সিপিএমের জন্যই রাজ্যে বিজেপির এই বাড়বাড়ন্ত। বর্ধমান বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, আমাদের এবার সবাই ভোট দেবে। তা বুঝতে পেরেই তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ