নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গত বছর ৮ ডিসেম্বর সন্দেশখালির ন্যাজাটে এক কিশোরী খুন হয়। সেই ঘটনায় সোমবার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে বিজেপির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যের শ্যালক উমেশ মণ্ডলকে। তাঁর বাড়িতেই থাকত নিহত কিশোরী ও তার মা। এই গ্রেপ্তারির সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে গিয়েছে রাজনৈতিক আক্রমণের অভিমুখ। এই ঘটনাকে ‘হাতিয়ার’ করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পুরোদমে নেমে পড়েছিল গেরুয়া শিবির। ছুটে এসেছিল জাতীয় মহিলা কমিশনের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’। বিজেপি দাবি করেছিল, গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে কিশোরীকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এহেন একটি ঘটনায় খোদ জেলা সভাপতির আত্মীয় গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন বিষয়টি কার্যত ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে বিজেপির জন্য। সন্দেশখালিতে বিজেপির তথাকথিত ‘মহিলা-দরদ’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে নেমে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান ছিল, খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য কিশোরীর দেহ জলে ফেলে দেওয়া হয়। কিশোরীর পরিবার দাবি করে, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলে, ধর্ষণ নয়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে কিশোরীকে। এই ঘটনার কিছুদিন আগে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর দলবলের একাধিক কীর্তি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন স্থানীয় মহিলারা। সেই ‘বিদ্রোহ’ জিইয়ে রেখে লোকসভা ভোটে ফায়দা তুলতে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটপ্রাপ্তির বিচারে সেরকম কোনও সুবিধা গেরুয়া শিবির না পেলেও সন্দেশখালিতে মহিলা নির্যাতনের ইস্যুটি কিশোরী খুনের পর ফের জেগে ওঠে। এলাকায় আসেন অর্চনা মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা। বিজেপির প্রতিনিধি দল কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। দলের বর্তমান জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য তখন দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের লোকজনই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন তিনি। এখন তাঁরই শ্যালক গ্রেপ্তার হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। আরও এক অভিযুক্ত তাপস বরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সুকল্যাণ বলেন, ‘আমরা চাই আসল দোষীরা শাস্তি পাক। ক’দিন আগে ভাঙ্গিপাড়ার একটি খুনের ঘটনায় হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতেই এসব শুরু করেছে পুলিস। ওদের তদন্তে আস্থা নেই।’ দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘বিজেপি সব সময় অপপ্রচার করতে চায়। ওদের নেতার আত্মীয়রাই খুনের ঘটনায় জড়িত। অথচ সবেতেই তৃণমূল খোঁজে। সন্দেশখালি নিয়ে ভোটের আগে ওরা কী কী করেছিল, তাও সবাই জানে। মানুষ তার জবাব দিয়েছে।’ একই কথা বলছেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতও।