নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২১ সালে জিতে আসা সব বিধায়ককে ধরে রাখতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। তবে যাঁরা এখনও গেরুয়া শিবিরে রয়েছেন, সেই বিধায়কদের সকলেও যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন, এমন নয়। লোকসভা অথবা বিধানসভা, যে কোনও ভোটের সময় নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের স্ট্র্যাটেজি হল, নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে নতুন মুখকে প্রার্থী হিসাবে নিয়ে আসা। সেই কৌশলের পুনরাবৃত্তি হবে বাংলাতেও। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি বিধায়কদের সকলে প্রার্থী হবেন না। একঝাঁক নাম বাদ যেতে চলেছে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
পুনরায় প্রার্থী হওয়ার অন্যতম শর্ত— বিগত পাঁচ বছর ধরে বিধায়কদের জনসংযোগ কেমন ছিল, বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না এবং সাধারণ ভোটারদের কত শতাংশ মানুষ তাঁদের চেনেন। এই তিনটি প্রধান শর্ত খতিয়ে দেখবে বিজেপির নিজস্ব সমীক্ষা। ফলে নিছক বঙ্গ বিজেপির কোনও না কোনও নেতার সুপারিশে প্রার্থী পদ পাওয়ার সম্ভাবনা এবার কম। তবে বিজেপির অন্দরে সবথেকে বড় সংকট হল, ২৯৪ আসনে জোরদার প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১ সালে জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৭। এরপর ক্রমেই একে একে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কিছু বিধায়ক। একঝাঁক বিধায়কের সম্পর্কে অভিযোগ, তাঁরা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। এই সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে সক্রিয় ও পরিচিত মুখকে তুলে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সংগঠনের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের দেওয়া হবে প্রার্থী পদ।
বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, তৃণমূলের সঙ্গে তাদের দলের অন্যতম ফারাক হল ভোটব্যাংক। প্রার্থী যেই হোক, সকলে ভোট দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। বিজেপির সেরকম কোনও সুবিধা নেই। নরেন্দ্র মোদিকে দেখে ভোট হয় বটে, কিন্তু তার বাইরে রাজ্যস্তরের তেমন কোনও নেতা নেই। সেই কারণে পরিচিত, বিখ্যাত, সামাজিকভাবে জনপ্রিয় এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে। যাকে তাকে টিকিট দেওয়া যাবে না। কিন্তু প্রায় ১৯০ আসনে সুপরিচিত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় প্রার্থী পাওয়া দুঃসাধ্য হচ্ছে বিজেপির কাছে। ২০২১ সালে জয় পাওয়া ৭৭ আসন এবং ১০ হাজারের কম ভোটে পরাজিত হওয়া আসনগুলিতে জোর দেওয়া হবে সর্বশক্তি নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, যে প্রার্থীরা কম মার্জিনে পরাজিত হয়েছিলেন, তাঁদের আবার টিকিট দেওয়া হবে কি না। কিন্তু বিধায়কদের মধ্যেই যে একঝাঁক নাম বাদ যেতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই।