নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গোঘাটের মান্দারণ পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি। সেখানে প্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সাথী সিং। রাজ্যে পালাবদলের পর আরামবাগ মহকুমায় এই প্রথম তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত দখল করল গেরুয়া শিবির। সেখানে বিদায়ী প্রধান বিডিও-র কাছে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তারপরেই ওই পঞ্চায়েতে এদিন প্রধান নির্বাচনের দিন স্থির হয়। তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হন সিংড়াপুরের পঞ্চায়েত সদস্যা সাথীদেবী। প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এদিন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে তা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। গোঘাট-২এর বিডিও কল্লোল সরকার বলেন, মান্দারণে এদিন প্রধান নির্বাচন হয়েছে।
নব নির্বাচিত প্রধান বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের সদস্যরাই এদিন আমাকে প্রধান হিসাবে সমর্থন করেছেন। যেসব এলাকায় বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়ন পৌঁছায়নি, সেখানে মানুষের চাহিদা মতো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, মান্দারণ পঞ্চায়েতে ২১ জন সদস্য। তারমধ্যে চারজন বিজেপির টিকিটে জয়ী হন। বাকিরা তৃণমূল থেকে নির্বাচিত হন। তৃণমূল সরকারের সময় সেখানে প্রধান ছিলেন কৃষ্ণা দলুই। রাজ্যে পালাবদলের পর সেখানকার প্রধান ব্লক প্রশাসনের কাছে পদত্যাগ করেন। তার জেরে নতুন প্রধান ঠিক করতে এদিন বৈঠকের আয়োজন ব্লক প্রশাসন। এদিন ওই বৈঠকে বিজেপির চারজন ও তৃণমূলের ১১ জন সদস্য হাজির ছিলেন। ওই বৈঠকে সাথী সিংয়ের নাম প্রধান হিসাবে প্রস্তাব ওঠে। তাতে সমর্থন জানান বাকি সদস্যরা। এরপরেই পঞ্চায়েতের বাইরে বিজেপির নেতা-কর্মীরা মালা পরিয়ে নতুন প্রধানকে সংবর্ধনা জানান। গেরুয়া আবির খেলা হয়। বিজেপির স্টেট কাউন্সিলের সদস্য চিন্ময় মল্লিক বলেন, বিগত বোর্ডের প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। তাই প্রশাসন নিয়ম মেনে এদিন প্রধান নির্বাচনের দিন স্থির করে। সেইমতো এদিন সদস্যদের সর্ব সম্মতিক্রমে বিজেপির সদস্যা প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের বিজেপিতে যোগদান করানো হয়নি। এলাকায় উন্নয়নে বিজেপিকে প্রয়োজন। সেই কথা ভেবে তৃণমূলের সদস্যরা সমর্থন করেছেন। তৃণমূলের গোঘাট-২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি সৌমেন দিগার বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য আমাদের সদস্যরা বিজেপির প্রধান নির্বাচনে সমর্থন করেছেন।