Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে শাসানি বিজেপি প্রার্থীর

ঔদ্ধত্য! সিউড়ি পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে শাসালেন সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

সিউড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে শাসানি বিজেপি প্রার্থীর
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ঔদ্ধত্য! সিউড়ি পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে শাসালেন সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দলের বুথ সভাপতিকে ‘চমকানো’র অভিযোগ তুলে পুলিশকে ‘তৃণমূলের দালাল’ বলে আক্রমণ করলেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও রেয়াত করেননি তিনি। কড়া ভাষায় তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছেন সিউড়িতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে জওয়ানদের ক্যারম খেলার সাম্প্রতিক বিতর্কের কথা। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘অলরেডি তিনজনকে হটিয়েছি। দরকার হলে সবকটাকে হটাব।’

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ১৬৮নম্বর বুথের বিজেপির বুথ সভাপতি উপেন দাসের বাড়ি ঘিরে। পুলিশ সূত্রের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে উপেনের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি পাকানো এবং বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এবারও তিনি গণ্ডগোল করতে পারেন এমন ‘সন্দেহভাজন’ তালিকায় নাম থাকায় বুধবার সকালে তাঁর বাড়িতে যায় সিউড়ি থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। উপেনের অভিযোগ, পুলিশ এর আগেও এসে তাঁকে ঘর থেকে বেরতে বারণ করে ধমকে গিয়েছে। বুধবার সকালে ফের পুলিশ আসতেই তিনি দলীয় প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে খবর দেন। খবর পাওয়ামাত্রই অনুগামীদের নিয়ে রণংদেহি মেজাজে সেখানে পৌঁছান জগন্নাথবাবু।
গাড়ি থেকে নেমেই পুলিশকর্মীদের ঘিরে ধরে চিৎকার শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী। পুলিশকে লক্ষ্য করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তৃণমূলের দালালি বন্ধ করুন। অশোকস্তম্ভ খুলে তৃণমূলের লোগো পরুন।’ পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে শাসকদলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি। শুধু পুলিশ নয়, জগন্নাথের রোষের মুখে পড়েন সেখানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে ক্যারম খেলার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাহিনীর জওয়ানদের প্রশ্ন করেন, ‘ক্যায়া সোচা হ্যায়? তৃণমূল পার্টি অফিসে গিয়ে ক্যারম খেলছেন? আপনারা এখানে কী করতে এসেছেন? আপনাদের এখানে কেন আনা হয়েছে?’
এরপরই সংবাদ মাধ্যমের সামনে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে জগন্নাথ বলেন, আমাদের বুথ সভাপতিকে চমকাতে গিয়েছে সেন্ট্রাল ফোর্স। ভারতীয় জনতা পার্টির বুথ সভাপতিকে এসে চমকাবে? তাই আমরাও চমকে ওদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। ক্যারম খেলার জন্য ইতিমধ্যেই তিনজনকে হটিয়েছি, সবকটাকে হটাব। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যাব। যদিও যাঁর হয়ে প্রার্থীর এই লড়াই, সেই বুথ সভাপতি উপেন নিজেই জানিয়েছেন, যা বলার পুলিশই তাঁকে বলেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে কিছুই বলেননি।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সিউড়িতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ক্যারম খেলার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় কমিশন তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করেছে। সেই ইস্যুকেই এদিন হাতিয়ার করে মেজাজ হারান জগন্নাথবাবু। তবে একজন দায়িত্বশীল প্রার্থীর এভাবে পুলিশ ও আধাসেনাকে হুঁশিয়ারি দেওয়া নিয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিজেদের সম্পত্তি ভেবে নিয়েছেন। ওদের অঙ্গুলিহেলনে না চললেই বা তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেই বিজেপির নেতাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। কিন্তু যাই করুক, এভাবে শাসিয়ে বা ভয় দেখিয়ে ভোট জেতা যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ