সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সকাল থেকেই মেজাজ সপ্তমে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। বুথ জ্যামের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের তাড়া করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বচসায় জড়িয়ে পড়ছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটপর্ব চলার মাঝে বারবার এই হুমকি ও চোখরাঙানির জেরে ব্যাহত হচ্ছিল ভোট প্রক্রিয়া। তাতে ক্ষোভ বাড়ছিল বাসিন্দাদের। ক্ষিপ্ত হয়ে শুভেন্দুর উপর চড়াও হন তাঁদেরই একাংশ।
বৃহস্পতিবার কুমারগঞ্জ বিধানসভার চালুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বানিহারির ২৪ নম্বর বুথের বাসিন্দারা শুভেন্দুকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিল, চড়, ঘুসি খাওয়ার পর শেষে সাংবাদিকদের গাড়িতে চেপে এলাকা ছাড়তে হয় তাঁকে। সঙ্গে একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি ওই সময়।
প্রার্থী আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল এবং বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। শেষপর্যন্ত এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি। পাল্টা শাসকদলের বক্তব্য,কুমারগঞ্জ তাদের গড়। এসআইআরে প্রচুর সংখ্যালঘুর নাম বাদ গেলেও তৃণমূল প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। হার অবধারিত জেনেই বিভিন্ন বুথে গিয়ে হুমকি দিচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাদাগিরির জেরে রুষ্ট বাসিন্দাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, আমার নির্বাচনি এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল। সকাল থেকেই এসব করছিল তৃণমূল। আমি গিয়ে সবাইকে বুথে বসিয়ে দিয়েছি। সেজন্য তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমার উপর হামলা চালায়। এই ঘটনা পুলিশের মদতে ঘটানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল বুথের ভিতর।
কুমারগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তোরাফ হোসেন মণ্ডল এই ঘটনার সঙ্গে দলের কর্মীদের যুক্ত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেন, বিজেপির প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দাদাগিরি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। হারবেন জেনেও সকাল থেকে দৌড়ঝাপ করছিলেন। তবে, যাঁরা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, ঠিক করেননি।
দলের প্রার্থীকে মারধরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বলেন, পুলিশ যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিজেপির সরকার আসার পর আমরাই পদক্ষেপ নেব।