Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রচারে গিয়ে ‘বুলডোজার দিয়ে রক্তাক্ত’ করার নিদান বিজেপি প্রার্থীর, তীব্র বিতর্ক

সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের প্রচার। শেষ বেলায় প্রচারে ঝড় তুলতে চেয়েছে সব পক্ষই। আর সেই পর্বে হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ল।

প্রচারে গিয়ে ‘বুলডোজার দিয়ে রক্তাক্ত’  করার নিদান বিজেপি প্রার্থীর, তীব্র বিতর্ক
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের প্রচার। শেষ বেলায় প্রচারে ঝড় তুলতে চেয়েছে সব পক্ষই। আর সেই পর্বে হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ল। রবিবার একটি জনসভায় প্রার্থী রেখা পাত্রের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা তীব্র হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কারণ, হিঙ্গলগঞ্জে বুলডোজার চালিয়ে রক্তারক্তি করার দাওয়াই দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এসব মূলত ‘বহিরাগত সংস্কৃতি’ বলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। জানা গিয়েছে, যোগেশগঞ্জ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে রেখা পাত্র বলেন, ‘আমরা বুলডোজার চালিয়ে রক্তাক্ত করব। কিন্তু সেই রক্ত বাইরে বেরবে না...।’ তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের মুখে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার সার্বিক আবহ উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিজেপি প্রার্থীর এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য নির্বাচনি বিধিভঙ্গের সমান। তবে বিতর্ক বাড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বিজেপি প্রার্থী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ‘যেভাবে অত্যাচার চলছে, তাতে নারী বাহিনীই বুলডোজার চালাবে।’ বুলডোজারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কার্যত সাফাই দেওয়ার সুরে বলেন, ‘বুলডোজার মানে ঝাঁটা, লাঠি নিয়ে প্রতিবাদে নামা।’ 

Advertisement

স্বভাবতই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘বিধানসভার একজন প্রার্থী কীভাবে এই ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলতে পারেন, তা ভেবে আমরা বিস্মিত। মহিলাদের আমরা মায়ের মতো সম্মান করি। এখানে সম্পূর্ণ উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘এই ধরনের মন্তব্য শান্তিপূর্ণ এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর ইঙ্গিত বহন করছে।’ এদিকে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিঙ্গলগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক ভাষণের অতিরঞ্জন বলে মনে করছেন। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কারণ, এই মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের আগে এ ধরনের মন্তব্য প্রায়শই মেরুকরণ বাড়ায় এবং তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফলাফলেও। সব মিলিয়ে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, হিঙ্গলগঞ্জের রাজনৈতিক আবহ ততই তপ্ত হয়ে উঠছে। বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে পালটা আক্রমণ, প্রতিক্রিয়া এবং জনমানসে তার প্রতিফলন—সব মিলিয়ে এই কেন্দ্র এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ