সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়িতে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এড়াচ্ছে না। তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার রামনবমীর শোভাযাত্রায়। যেখানে একদিকে ময়নাগুড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শোভাযাত্রায় হাঁটলেন। অন্যদিকে, কৌশিক রায়ের থেকে বেশ কিছুটা দূরে হাঁটলেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা নেতৃত্ব সহ ময়নাগুড়ির নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস শিবির।
শুক্রবার রাম নবমী উপলক্ষ্যে ময়নাগুড়িতে শোভাযাত্রা বের হয়। সেখানে অংশগ্রহণ করেন বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায়। এই শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সহ-সভাপতি চঞ্চল সরকার সহ একাধিক নেতা-নেত্রী। কিন্তু এই শোভাযাত্রায় দলীয় প্রার্থী কৌশিক রায়ের সঙ্গে তাঁকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি। এমনকী পরস্পরের মধ্যে কথা বলতেও দেখা যায়নি। চঞ্চল সরকার সহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা নিজেদের মতোই হেঁটেছেন শোভাযাত্রায়।
ময়নাগুড়িতে প্রার্থী ঘোষণার পর বিজেপির অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী পদ বদলের দাবিতে জেলা নেতৃত্বকে ময়নাগুড়ি দলীয় কার্যালয় আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন দলের একাংশ নেতা-কর্মী। তার রেশ এখনও বিজেপির অন্দরে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক ঝুলন সান্যাল বলেন, এবার একেবারেই অন্যরকম শোভাযাত্রা দেখলাম। কোনো সময় দেখা গিয়েছে একটি অংশ অনেকটাই আগে, অপর একটি অংশ অনেকটাই দূরে। বিজেপির অভ্যন্তরে যে প্রার্থীকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে, তা এদিন মানুষের চোখে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তাদের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই এটা হয়েছে। যেহেতু কৌশিক রায়কে দেখা যায় না, সে কারণেই তাঁর প্রার্থী পদ বদলের দাবি তুলেছিলেন গেরুয়া শিবিরের লোকজন। সে কারণেই হয়ত কৌশিক রায় একাই শোভাযাত্রায় হেঁটেছেন। বাকিরা দূরত্ব বজায় রেখেছেন।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সহ-সভাপতি চঞ্চল সরকার বলেন, শোভাযাত্রায় ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। সে কারণে কে কোথায় ছিলেন তা দেখা যায়নি। তৃণমূল আমাদের নিয়ে এত না ভেবে নিজেদের কথা চিন্তা করুক। এবারেও ময়নাগুড়ি বিধানসভায় তৃণমূল হারতে চলেছে। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় বলেন, কে কী বলল, সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমার একটাই কথা সেটা হল ধর্মের প্রতিষ্ঠা। নিজস্ব চিত্র