Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইভিএম বদলের অভিযোগ বিজেপি প্রার্থী অনিমা দত্তর, অস্বীকার প্রশাসনের

ডিসিআরসি সেন্টারে রাখা ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল তেহট্টের বেতাই পলিটেকনিক কলেজে।

ইভিএম বদলের অভিযোগ বিজেপি প্রার্থী অনিমা দত্তর, অস্বীকার প্রশাসনের
  • ১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, তেহট্ট: ডিসিআরসি সেন্টারে রাখা ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল তেহট্টের বেতাই পলিটেকনিক কলেজে। বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বেতাই পলিটেকনিক কলেজে ডিসিআরসি কেন্দ্রের প্যান্ডেলের ত্রিপল কেটে  ওই কেন্দ্রে রাখা পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১ থেকে ২৮ বুথের  ইভিএম পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও প্রশাসন ও শাসক দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

Advertisement

​পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ডিসিআরসি সেন্টার করা হয়েছিল বেতাই পলিটেকনিক কলেজে। সেখানেই ভোট শেষে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিনগুলি রাখা ছিল। ওই মেশিনগুলি বেতাই ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজের মূল স্ট্রং রুমে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় দেখা যায় অস্থায়ী প্যান্ডেলের পিছন দিকে ত্রিপল ও কাপড় ছেঁড়া রয়েছে। 
​পলাশীপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অনিমা দত্ত সরাসরি শাসক দলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস নিশ্চিতভাবে হেরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে রাতের অন্ধকারে ঝড়-বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ইভিএম পরিবর্তন করেছে। যেদিকের ত্রিপল ছেঁড়া, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। আমাদের সন্দেহ আরও বাড়ছে কারণ বারবার চাওয়া সত্ত্বেও সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের দেখানো হচ্ছে না। আমরা চাই সত্যিটা সামনে আসুক। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
​অভিযোগ অস্বীকার করে তেহট্ট-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি হাসিফুল মালিত্যা বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। যে কেন্দ্রে ১০০টি বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি। সেই কেন্দ্রে আমরা এই অনৈতিক কাজ করব, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ইভিএম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, সেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি প্রার্থী মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে ঝড় বৃষ্টির কারণে ত্রিপল ছিঁড়ে যেতে পারে। সেখানে সব সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসি ক্যামেরা ছিল। ফলে এটা সত্যি নয়। তেহট্টের মহকুমা শাসক অভিজিৎ রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে ওই ইভিএমগুলি কাউন্টিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেটা প্রত্যেক দলকে চিঠি লিখে জানানো হয়েছিল। সব দলের প্রতিনিধি ওখানে ছিলেন।  ইভিএম পরিবর্তনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। কড়া পুলিশি পাহারায় সমস্ত মেশিন বেতাই কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্কুটিনি সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি।
তেহট্ট বিধানসভায় যে কোনো নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। সাধারণত ভোটের ব্যবধান থাকে ছয় থেকে সাত হাজারের মধ্যে। এবার এসআইআরের কারণে তেহট্ট বিধানসভায়  বাদ পড়েছে ৮৩৩২ জন ভোটার। ফলে এবার লড়াই আরও হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে কেন্দ্রে। রাজনৈতিক দলগুলি সেই কারণে ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কার্যকর্তাদের কাছ থেকে বুথ ভিত্তিক ভোটের হিসাব চাইতে শুরু করেছে। কোন বুথে কত ভোট পড়েছে আর দল কত পেতে পারে। এই হিসাবের উপরেই ভিত্তি করে জয়-পরাজয় নিশ্চিত করতে চাইছে রাজনৈতিক দলগুলি। তেহট্ট বিধানসভায় ২৭৪টি বুথ রয়েছে। এরমধ্যে ২৪৫টি বুথে বিজেপি এজেন্ট দিয়েছিল ২৯টি বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি। 
এই বিষয়ে তেহট্ট বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার বলেন, আমি সব বুথে দলীয় এজেন্টদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলে হিসাব নিচ্ছি। আশা করছি এবার মানুষ আমাদের উন্নয়নের জন্য আশীর্বাদ করবেন। 
তেহট্টের সিপিএম প্রার্থী সুবোধ বিশ্বাস বলেন, আমার এত দিনের রাজনৈতিক জীবনে এটা বলতে পারি আমার বুথের কর্মীরা যে হিসাব দিয়েছেন তাতে আমি এবার জিতব। নদীয়া জেলা উত্তরের বিজেপির মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রত্যেক বিধানসভায় এই হিসাব নিচ্ছি। তবে যাই হোক এবার পরিবর্তনের অংশ হবে তেহট্ট বিধানসভা। 

সম্পর্কিত সংবাদ