Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন নেওয়ার জন্য বাগদায় শিবির বিজেপির, শুরু বিতর্ক

একদিকে একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তা। সেই সঙ্গে বিহারের পর বাংলায় ‘এসআইআর’-এর ভ্রূকুটি।

সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন নেওয়ার জন্য বাগদায় শিবির বিজেপির, শুরু বিতর্ক
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: একদিকে একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তা। সেই সঙ্গে বিহারের পর বাংলায় ‘এসআইআর’-এর ভ্রূকুটি। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের কয়েকমাস আগে এই দুই ইস্যুতে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ক্রমশ তেতে উঠছে। নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই আবহে বাগদা এলাকায় বিজেপির একটি কর্মসূচি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বাগদায় বিজেপির পক্ষ থেকে সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন নিতে শিবির করা হয়। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে আবেদনও করেন। বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা সৌরভ গোয়ালির তত্ত্বাবধানে শিবিরটি আয়োজিত হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাগদার চুয়াটিয়া এলাকায় আয়োজিত এই শিবিরে প্রায় ৪০ জন এদিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। সৌরভবাবু জানিয়েছেন, আবেদনগুলি অনলাইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হবে। স্ক্রুটিনির পর সব নথি ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাস দু’য়েকের মধ্যে মিলবে নাগরিকত্ব। যদিও কোনও রাজনৈতিক দল এভাবে শিবির করে সিএএ’র আবেদন নিতে পারে কি না, প্রশ্ন তুলেছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের মুখে নাগরিকত্ব ইস্যুতে শান দিতে গিয়ে বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে বলে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিগত বছরগুলিতে ওপার বাংলা থেকে আসা অনেকেই শিবিরে এসেছিলেন। যেমন, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে বাগদার কোনিয়াড়া পঞ্চায়েতের মাথাভাঙা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নাগরিকত্ব পেতে তিনি এদিন শিবিরে এসেছিলেন। যুধিষ্ঠিরবাবু জানান, অতীতে বাংলাদেশে বসবাস এবং বর্তমানে ভারতে থাকার নথি ছাড়াও একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শংসাপত্র জমা দিতে হয়েছে তাঁকে। বিজেপির ওই নেতা বলেন, ‘মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চাইছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁরা। তাই আমরা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই শিবিরের আয়োজন করেছি।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘ভোটের আগে বিজেপি সিএএ জুজু দেখায়। সামনে ভোট বলেই এই শিবির। মানুষের ভোটে নির্বাচিত সাংসদ বৈধ হলে নাগরিকরা অবৈধ কীভাবে? বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে।’ মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালিত করছেন শান্তনু ঠাকুর। এই ক্যাম্পের বিষয়ে আরও ভালোভাবে খবরাখবর নিয়ে আমি তা প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনব। এটা এভাবে চলতে পারে না।’ -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ