ব্রতীন দাস ও সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: পাঁচ বছর দলের ময়নাগুড়ির বিধায়কের হয়ে কার্যত প্রক্সি দিয়েছেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়। যেখানেই বিধায়ক কৌশিক রায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে, দলের স্বার্থে সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন খোদ সাংসদ। দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সামাল দিতে জয়ন্তবাবু বলেছেন, আমি তো আছি। আপনারা আমাকে দেখুন। কী সমস্যা আপনাদের, আমাকে বলুন। তাতে কিছুটা প্রলেপ পড়েছে। কিন্তু দলের কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা কৌশিক প্রার্থী হওয়ায় তুঙ্গে উঠেছে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ। ময়নাগুড়িতে দলের প্রার্থী নিয়ে যে এমপি নিজেও খুব একটা খুশি নন, হাবেভাবে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, আপনারা তো সবই দেখেছেন। যা লেখার লিখুন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে ময়নাগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণা হলেও ময়দানে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এদিন সকালে ধূপগুড়ি হুসলুরডাঙা এলাকায় বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি কৌশিককে। তাঁকে ঘিরে দলের কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নেই। বাড়ির সামনে কয়েকটা চেয়ার পাতা থাকলেও সেগুলি ছিল ফাঁকা।
বিন্নাগুড়ি টিজি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন কৌশিক রায়। বিধায়ক হয়েও চাকরি ছাড়েননি। স্ত্রী সোনি রায় বলেন, বিধানসভা না থাকলে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন কৌশিকবাবু। এবারও প্রার্থী হওয়ায় অফিশিয়াল কিছু কাজের জন্য এদিন আংরাভাসায় স্কুল পরিদর্শকের অফিসে গিয়েছেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন, এখন কোনো কথা বলব না। সোমবার থেকে প্রচারে নামব। এটুকু বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।
গত পাঁচ বছরে ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ককে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিতর্ক। কখনো দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে উঠে উদ্দাম নাচ, কখনো তাঁকে ঘিরে ময়নাগুড়িতে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার, কখনো আবার সমবায় সমিতির ঋণ নিয়ে তা শোধ না করা এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে তা মেটানো, এমনই নানা ঘটনা আবর্তিত হয়েছে কৌশিককে ঘিরে। ফলে ফের তাঁকে প্রার্থী হিসাবে মেনে নিতে চাইছেন না বিজেপি কর্মীরাই।
ময়নাগুড়িতে দল কৌশিককে প্রার্থী করায় তৃণমূলের জয় অনেক সহজ হয়ে গেল, প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। যদিও এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়। তিনি বলেন, বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, সেটা আমাদের বিষয় নয়। তবে পদ্ম পার্টি এবারো যাঁকে টিকিট দিয়েছে, গত পাঁচ বছরে ময়নাগুড়ির মানুষ চিনে গিয়েছেন তাঁকে।
ময়নাগুড়ি শহরের নতুনপাড়ায় ৩৫ বছর ধরে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন সুজয় চৌধুরী। বললেন, গত পাঁচ বছরে বিধায়ককে একবারও চোখে দেখিনি। স্থানীয় সুভাষনগরের বাসিন্দা গাড়ি ব্যবসায়ী সুধাংশু ঘোষ বলেন, একুশের ভোটে জেতার পর বিজেপির বিধায়ককে একদিন পার্টি অফিসের সামনে দেখেছিলাম। আর দেখিনি। দক্ষিণ খাগড়াবাড়ির হঠাৎ কলোনির সুরেন রায় বলেন, বিজেপি বিধায়ক কোনো কাজ করেছেন বলে আমার জানা নেই। নিজস্ব চিত্র