অগ্নিভ ভৌমিক, কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ বিধানসভার উপ নির্বাচনের সব বুথে এজেন্ট দিতে না পাববে না আগেই জানিয়েছিল বিজেপি। নির্বাচনের দিন অধিকাংশ বুথেই দেখা গেল না গেরুয়া শিবিরের কোনও এজেন্টকে। বুথের বাইরে বিজেপির ক্যাম্পে সেভাবে কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়নি। একটু বেলা গড়াতেই বিজেপির ক্যাম্প খালি হতে শুরু করে। তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপি পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ময়দান দিয়েছে। তবে এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে ময়দান চষে বেড়াতে দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা বুথে বুথে ঘোরেন। ভোটাদের সঙ্গে কথা বলেন। কোথাও কোন বুথে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন তাঁরা।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ দেবগ্রাম টিকে গার্লস হাই স্কুলের ১৭৩ নম্বর বুথে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। কিন্তু, তাঁর মধ্যমা আঙুলে কালি দেওয়া রয়েছে, যা নিয়ে দিনভর বিতর্ক হয়। সাড়ে ৮টা নাগাদ মীরা গার্লস হাই স্কুলের ২৯ নম্বর বুথে ভোট দেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আলিফা আহমেদ। বড় চাঁদঘর হাই স্কুলের ৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিলেন কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ। ভোট দেওয়ার পর প্রার্থীরা বিভিন্ন পঞ্চায়েত ঘুরতে শুরু করেন।
বিধানসভার ৬৪ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থীর গাড়ি কাদায় ফেঁসে যায়। দিনের শেষে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। তিনি মীরা-১ পঞ্চায়েতের পাশাপাশি পানিঘাটা, হাটগাছা, মাটিয়ারি, জুড়ানপুর, গোবরা পঞ্চায়েত এলাকার বুথে বুথে ঘোরেন। তিনি বলেন, বিধানসভার সকল বুথে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সকালের দিকে একটু টেনশন হচ্ছিল। কারণ তখন ভোট পোল খুব কম হচ্ছিল। তবে বেলা যত গড়িয়েছে মানুষ বুথে এসে ভোট দান করেছেন।
এদিন সকাল থেকেই পলাশী রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির ক্যাম্পে লোক ছিল না। একই ছবি ধরা পড়েছে কালীগঞ্জ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বুথেও। তৃণমূলের দাবি, কালীগঞ্জ পঞ্চায়েতের ১৫টি বুথে বিজেপি কোনও এজেন্ট দিতে পারেনি। এছাড়াও গোবরা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন ক্যাম্পেও দুপুরের পর গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের দেখা যায়নি। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতগুলিতে বিজেপি লিড পেয়েছিল।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জ বিধানসভার ৩০৯টি বুথের মধ্যে ১৮০টি বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি। তার মধ্যে একটি হচ্ছে হাটগাছা পঞ্চায়েতের ২০৯ নম্বর বুথ। .এদিন ওই বুথে গিয়ে দেখা যায়, বিজেপির কোনও এজেন্ট না থাকলেও কংগ্রেস ও তৃণমূলের এজেন্ট ছিল। এই বুথে সকাল থেকেই ছিল মহিলাদের লম্বা লাইন। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, কালীগঞ্জের উপ নির্বাচনে মহিলা ভোট ফ্যাক্টর হতে চলেছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী দেবগ্রাম, গোবরা, মাটিয়ারি, ফরিদপুর পঞ্চায়েত এলাকার বুথগুলি ঘুরে দেখেন। দিনের শেষে তিনি বলেন, মানুষ তৃণমূলকে চাইছে না। তৃণমূল অপশাসনে মানুষ বীতশ্রদ্ধ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরাও তৃণমূলের বিকল্প চাইছে। বাম-কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ মীরা-১, দেবগ্রাম, মাফিয়ারি, ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বুথগুলি ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা হয়েছিল। তবে ভোট নির্বিঘ্নেই হয়েছে। ছাপ্পা, রিগিং কিংবা প্রক্সি ভোট হয়নি।



