Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুন! বারুইপুরে গ্রেপ্তার বাবা, পলাতক ভাই

বিজেপির বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁরই বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম রাজীব বিশ্বাস (২২)

বিজেপির বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুন! বারুইপুরে গ্রেপ্তার বাবা, পলাতক ভাই
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বিজেপির বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁরই বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম রাজীব বিশ্বাস (২২)। তিনি বারুইপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুথ সভাপতি ছিলেন। এই ঘটনায় বারুইপুর জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অভিযুক্তরা সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ রাজীবকে খুন করা হয়েছে। এই নিয়ে সোমবার বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী। সোমবার রাতে বাবা নিতাই বিশ্বাসকে উকিল পাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত পাওয়া যায়নি মৃতের ভাইকে। তবে কী কারণে খুন সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে একাধিক কারণ উঠে আসছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ৮ আগস্ট বাড়িতেই বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা বেধেছিল রাজীবের। তখনই তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরদিন, অর্থাৎ ৯ তারিখ রাজীবের মৃত্যু হয়। এরপর দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দু’দিন ধরে বুথ সভাপতির দেখা না মেলায় তাঁর খোঁজ করতে গিয়ে রবিবার বিজেপি কর্মীরা গোটা ঘটনাটি জানতে পারেন। এই খুনের ঘটনায় উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। শুধুই কি রাজনৈতিক বিবাদ, নাকি অন্য কোনও কারণে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে গোলমাল চলছিল?  প্রতিবেশীদের দাবি, রাজীবদের বাড়ির সামনে একটি জমির প্রোমোটিং করার কথাবার্তা চলছিল। প্রোমোটারদের যাতায়াত লেগেছিল। মনে করা হচ্ছে, জমিতে প্রোমোটিং করতে বাধা দিচ্ছিলেন রাজীব। সেটা নিয়েই হয়ত ঝামেলা চরমে ওঠে। তবে এর আগেও রাজীবকে তাঁর বাবা ও ভাই মারধর করেছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। যেমন পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির পতাকা লাগানো নিয়ে নিতাই বাবু মারধর করেছিলেন রাজীবকে। ফলে এটা স্পষ্ট, যে বাবা ও বড় ছেলের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল না। পুলিস এই দিকটা আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করে দেখতে চাইছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত ঝামেলার কিছু প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজীবের বাবা বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ইউনিয়নের নেতা। একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। খুনের ঘটনা নিয়ে গৌতমবাবু বলেন, বাবা ও ছেলে তৃণমূল করে। ওরাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। এই কথা জানার পরই আমরা বারুইপুর থানায় খবর দিই। পুলিস দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন বারুইপুর পুরসভার ১৫  নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অর্চনা মল্লিক। তিনি বলেন, এই ঘটনায় তৃণমূলের যোগ নেই। পারিবারিক বিষয়। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ