


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানী। নিজস্ব আয়ের সুযোগও কম। রাজ্যে পালাবদলের পরে তাই অবসরভাতার দায়িত্ব থেকে মুক্তি চাইছেন পুরসভার কর্তারা। একের পর এক পুরসভা থেকে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের কাছে সেই দাবি রাখা হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে। সম্প্রতি নিজ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরসভাগুলিতে গিয়েছিলেন বিজেপির নতুন বিধায়কেরা। তখনই তাঁদের কাছে পুরসভার হাঁড়ির হাল জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পুরচেয়ারম্যানরা। মূল কথা, অবসরভাতা বা পেনশনের আর্থিক ব্যয় বহনের দায় থেকে মুক্তি চেয়েছেন তাঁরা।
বাস্তবে চেয়ারম্যানরা দায়মুক্ত হতে পারবেন কি না, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু ওই দাবিতে আশায় বুক বাঁধছেন অবসরপ্রাপ্তরা। পেনশনভোগীদের একাংশের দাবি, কখনো মাসের পেনশন সেই মাসে মেলেই না। দু-তিন মাস অপেক্ষা করে থাকতে হয়। তাতে জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য দায়িত্ব নিলে পেনশনভোগীরাও মুক্তি পাবেন।
রাজ্যের একদম শেষপ্রান্তের বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, কর্মীদের অবসর ভাতার ব্যয় বহন করতে গিয়ে লেজেগোবরে হতে হচ্ছে। রাজ্য দায় নিলে বেঁচে যাই। বালুরঘাট পুরসভাকে প্রতিমাসে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পেনশনবাবদ ব্যয় করতে হয়।
৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয় ইংলিশবাজার পুরসভাকে। বহুবছর ধরে সেখানকার চেয়ারম্যানে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ওই দায়িত্ব পুরোটাই নিয়ে নিলে পুরপরিষেবায় বাড়তি গতি আসবে।
হুগলির বৈদ্যবাটি পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত বলেন, নতুন বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং পুরসভায় সমস্যার কথা জানতে এসেছিলেন। আমরা তাঁকে বলেছি, পেনশনভোগীদের ভাতার দায় এবার পুরোপুরি রাজ্য সরকার বহন করুক। তাতে পুরসভার আর্থিক বোঝা অনেকটা হালকা হবে। বিজেপির চুঁচুড়া ও চাঁপদানির (বৈদ্যবাটি) বিধায়ক যথাক্রমে সুবীর নাগ ও দিলীপ সিং স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের কাছে পুরকর্তারা ওই বিষয়ে দাবি পেশ করেছেন। তাঁরা দুজনেই বলেন, পুরকর্তাদের ওই দাবির কথা রাজ্যকে জানাব।
উত্তর দমদম ও বরানগরের পুরসভার চেয়ারম্যান যথাক্রমে বিধান বিশ্বাস ও অপর্ণা মৌলিক বলেন, পেনশনের দায় বহন অসহনীয় হয়ে উঠছে। এই দায়িত্ব রাজ্য এবার পুরোপুরি নিলেই ভালো হয়।
পুরসভা সূত্রের খবর, বহুবছর ধরেই পুরসভার অবসর ভাতার ৬০ শতাংশ টাকা পুরসভাকে জোগাড় করতে হয়। বাকি ৪০ শতাংশ টাকা রাজ্য সরকার দেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই বিপুল আর্থিক দায় বহন পুরসভাগুলির জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। জানা গিয়েছে, গ্রেড অনুসারে পুরসভাগুলিকে গড়ে প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকা পেনশন বাবদ দিতে হয়। রাজ্যে পালাবদলের পরে এবার সেই ভার কাঁধ থেকে নামাতে চাইছেন রাজ্যের পুরকর্তারা।