নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়লা পাচারে জড়িত রয়েছেন ইসিএলের আধিকারিকরা। তৃণমূল শ্রমিক নেতার পর একই অভিযোগ করলেন বিজেপি জেলা সভাপতি। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন বিজেপির জেলা সভাপতি। তিনি ঝাঁজরা এরিয়ার শীর্ষ আধিকারিককে ক্লোজ করে তদন্তেরও দাবি করেছেন। বিজেপির দাবি, তাঁরা পুলিস কমিশনার ও ইসিএলের সিএমডির কাছে পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন। তাঁদের অভিযোগ, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই এই কাজ করছেন ইসিএলের আধিকারিকরা।
তবে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে বলেন, আমরাও চাই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএলের দুনীর্তি নিয়ে তদন্ত হোক। আসলে বিজেপির কিছু নেতা ওই এলাকায় তোলা চাইতে গিয়েছিল। সেখানে আমাদের শ্রমিক সংগঠন শক্তিশালী। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাঁরা সেটিং করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁদের অধীনে থাকা সংস্থার দুনীর্তির অভিযোগের সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই।
শিল্পাঞ্চলে কয়লা পাচার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে সরগরম থেকেছে রাজ্য। কয়লা পাচারের তদন্ত করে সিবিআই ইসিএলের একাধিক জিএম, ভারপ্রাপ্ত সিএমডিকে গ্রেপ্তার করেছিল। অনুপ মাজি, জয়দেব মণ্ডল, গুরুপদ মাজি, নীরদ মণ্ডল, নারায়ণ খাড়কা সহ প্রভাবশালী কয়লা কারবারিরা সিবিআই চার্জশিটে অভিযুক্ত।
অভিযোগ, তারপরেও খনি অঞ্চলে কয়লা পাচার চলছে নিজস্ব স্টাইলে। কখনও কয়লার ডিও কারবার নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সরগরম হয়েছে এলাকা। কখনও আবার কয়লার সঙ্গে ডাস্ট মিশিয়ে ওজন এক রেখেই গুণমানে আপোস করার অভিযোগ ওঠেছে। এবার তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত সংস্থার বিরুদ্ধেই সরব হল বিজেপি। এদিন বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ও জিতেন্দ্র তেওয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে ইসিএলের ঝাঁজরা এরিয়ার জিএমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের যোগসাজশে দেড় লক্ষ টন কয়লা কেলেঙ্কারি হয়েছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিস কমিশনার ও ইসিএলের সিএমডিকে লিখিত অভিযোগ করছি। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে, সেই ঝাঁজরা এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার রমেশচন্দ্র মহাপাত্রকে এনিয়ে জানতে বার বার ফোন করলেও উনি ফোন ধরেননি। এসএমএসেরও উত্তর দেননি।
সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল সরকারের উপর তলার সেটিংয়েই তো কয়লা লুট হচ্ছে। নিচুতলার কর্মীরা সেই খবর না পেয়ে অনেক সময়ে আন্দোলন করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে সিবিআই তদন্তে কয়লা পাচারের অভিযোগে ইসিএলের একাধিক আধিকারিকের হাজতবাস হয়েছে। অভিযোগ, পাচারের পর সাইডিংয়ে অবশিষ্ট কয়লার ওজন যাতে না কমে, তার জন্য মেশানো হয় কোল ব্যান্ড ডাস্ট ও ছাই। ইসিএলের সাইডিংয়েই এসব কাজ হয়। গত এক বছরে দেড় লক্ষ টন কয়লা পাচার হয়েছে।