Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজিবি’র আপত্তিতে চ্যাংরাবান্ধায় ছটপুজোর ঘাট নির্মাণ থমকে, ক্ষোভ

বিজিবি’র আপত্তিতে চ্যাংরাবান্ধায় ছটপুজোর ঘাট নির্মাণ থমকে, ক্ষোভ
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: কয়েক বছর ধরে ছটপুজোর জন্য স্থায়ী নদীঘাট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু সেই দাবি আজও পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন চ্যাংরাবান্ধার বাসিন্দারা। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধায় সবচেয়ে বেশি ছটপুজো অনুষ্ঠিত হয়। ফি বছর ছটপুজোর জন্য সেজে ওঠে এখানকার হাজরাপাড়ার ধরলা নদীর ঘাট। এই নদী ঘাটটি একদম বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা। সেজন্য ছটপুজো উপলক্ষ্যে এখানে থাকে পুলিস ও বিএসএফের বাড়তি নজরদারি। কোচবিহার জেলা পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, ছটপুজোকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবার বেশকিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশের আপত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই চ্যাংরাবান্ধায় থমকে রয়েছে স্থায়ী ছটঘাট নির্মাণের কাজ। এনিয়ে বিস্তর ক্ষোভ ছড়িয়েছে সীমান্তে।
Advertisement
বিজিবি অর্থাৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের আপত্তিতে প্রায় দশ বছর ধরে চ্যাংরাবান্ধায় থমকে রয়েছে ধরলা নদীর ঘাট তৈরির কাজ। শুধুমাত্র একটি কংক্রিটের রাস্তার কিছুটা অংশ নির্মিত হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটিতেও ফাটল ধরেছে। তারপর আর কাজ এগোয়নি। এই নদীঘাট নির্মিত হলে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে, এমনটাই দাবি বাংলাদেশের। তাই বিজিবি’র আপত্তিতে ছটঘাট নির্মাণ বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে। আজও সেই জটিলতা কাটেনি। সেজন্য গণেশ কানু, গোলাপ কানু, ভরতপ্রসাদ গুপ্তার মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় ধরলা নদীতে দ্রুত স্থায়ী পাকাঘাট তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করা হোক। 
মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, বছর দশেক আগে চ্যাংরাবান্ধায় পাকা ঘাট তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সামান্য কাজ হওয়ার পরেই বিজিবি’র তরফে আপত্তি তোলায় সেই কাজ থমকে যায়। বিষয়টি বিধানসভায় তুলব। বিএসএফের এক কর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। এনিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি।
মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নিয়তি সরকার বলেন, গোটা ব্লকের মধ্যে ছটপুজোয় সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় চ্যাংরাবান্ধায়। কিন্তু স্থায়ী নদীঘাট না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইলিয়াস রহমান। তিনি বলেন, স্থায়ী ছটঘাট তৈরি না হওয়ায় মাঝেমধ্যেই মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দু’দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।
সম্পর্কিত সংবাদ