Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বজবজে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলি-বোমার অভিযোগ

বজবজে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলি-বোমার অভিযোগ
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বজবজ: এলাকা দখল, কারখানা ও সিন্ডিকেটের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল বজবজ পুরসভা ও উত্তর রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত সীমানায়। সেখানে একটি বড় কারখানা, গুদাম এবং ইমারতি সামগ্রী সরবরাহের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এর দখলদারির লক্ষ্যেই বুধবার বিকেলে উভয়পক্ষ যথেচ্ছ বোমা ও গুলি ছোড়ে। আচমকা মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে বিরাট বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বজবজ থানার পুলিস আধিকারিকরা এবং এসডিপিও ইন্ডাস্ট্রিয়াল। তাঁরা ধাওয়া করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিসি টহল চলছে। নামানো হয়েছে র‌্যাফ। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, এব্যাপারে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। দলীয় নেতৃত্বকেও সতর্ক হতে হবে।
Advertisement
বজবজ পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড হয়েই যেতে হয় উত্তর রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শহর ও গ্রামাঞ্চলের এই সীমানা অংশে এক ব্যবসায়ী বড় কারখানা তৈরি করেছেন। সেখানে তৃণমূলের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বহু কর্মী কাজ করেন। পাশেই গুদাম নির্মাণের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই কারখানা তৈরির সময় থেকেই ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার লুৎফার হোসেনের অনুগামীরা যাবতীয় কাজ করে আসছেন। এ নিয়ে প্রবল আপত্তি উত্তর রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী শেখ হিরোর অনুগামীদের। কেন শুধু ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মীরা ওই কারখানায় কাজ পাবে, এ নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। 
পুলিস এবং শাসকদলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরের পর শেখ হিরোর অনুগামীরা কারখানার বাইরে জড়ো হয়। সেই সময় লুৎফারের অনুগতরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা হয়। এমনকী, মারধরের ঘটনাও ঘটে। এরপরই উত্তর রায়পুর গ্রাম থেকে লোকজন এসে বোমা ও গুলি ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা হামলাও হয় বলে অভিযোগ। কাউন্সিলার লুৎফার হোসেন বলেন, তাঁর অনুগামীরা কেউ এই ঘটনায় যুক্ত নন। কাউন্সিলার স্বীকার করেছেন, ওখানে উত্তর রায়পুরের প্রধানের স্বামী শেখ হিরোর অনুগতরাই গোলমাল করেছে। বোমা ও গুলি ওরাই চালিয়েছে। রাতে শেখ হিরোকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনার কথা শুনেছি। এখনও বাইরে আছি। পুরোটা না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। তাঁর সাফ কথা, কোনও কাউন্সিলারের সঙ্গে আমার বৈরিতা নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ