Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা স্মরণ করালেন মমতা

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা স্মরণ করালেন মমতা
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রইলেন তিনি। ফের একবার জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকারের ব্যাপার। তাই সেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। অন্যদিকে, এদিন বাংলাদেশের ৯ জন প্রতিনিধি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সেনাকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তাদের সঙ্গে হাজির ছিলেন ’৭১-এর যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারাও। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও হাজিক ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকে ভারত ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে দিয়েছেন সম্প্রীতির বার্তাও।
Advertisement
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানকে পরাজিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের  জন্ম হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল ভারতীয় সেনা। অসংখ্য ভারতীয় সেনা শহিদ হন। ১৬ ডিসেম্বর তারিখে ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সেনা। প্রতি বছর ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের তরফে ফোর্ট উইলিয়ামে এই দিনটি বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এদিন সকালে ফোর্ট উইলিয়ামে বিজয় স্মারকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। ভারতীয় সেনা বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ রামচন্দর তেওয়ারি সহ পদস্থ কর্তারা।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান তথা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পুরনো বন্ধুত্ব। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে।’ মুক্তিযোদ্ধ তথা প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলি জহির বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী। আগেও ছিল, এখনও আছে। আমাদের লড়াই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, ইনডিসিপ্লিনের বিরুদ্ধে।’  
বিকেলে বিজয় দিবসের মিলিটারি ট্যাটু অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রেসকোর্সের মাঠে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় একাধিকবার উঠে আসে ভারতীয় সেনার আত্মবলিদানের কথা। তিনি বলেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যের তরফে সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাই। আজ আমরা বিজয় দিবস পালন করছি। বাংলাদেশের যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন এখানেও আজ উপস্থিত হয়েছেন। আমরা চীনের সঙ্গে যুদ্ধের কথা জানি। ১৯৭১-এ বাংলাদেশকে স্বাধীন  করার যুদ্ধের সম্পর্কেও যথেষ্ট অবগত। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতবর্ষের আত্মবলিদানের কথা আমি ভুলতে পারব না।’ সেনাবাহিনীর পাশপাশি তাঁদের পরিবার-পরিজনকেও কুর্নিশ জানান মমতা। বলেন, ‘দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সেনাবাহিনী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ত্যাগের জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’ উল্লেখ্য, বিধানসভা থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় মমতা আগেও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে সব সময়েই তাঁর সরকার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করবে। এদিন সেই কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। 
সম্পর্কিত সংবাদ