Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম থেকে করলা, তরমুজ, আনাজ যাচ্ছে যোগী উত্তরপ্রদেশে

ঝাড়গ্রাম থেকে করলা, তরমুজ, আনাজ যাচ্ছে যোগী উত্তরপ্রদেশে
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে পাহাড়ী এলাকা ও পতিত জমি এখন শস্য শ্যামলা। এক দশক আগেও জেলায় জলের অভাবে প্রকট ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খারাপ। রাজ্য সরকার কৃষির উন্নয়নে নজর দিতেই চাষবাসের এলাকা বেড়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম, বিনপুর-২ ব্লক ও জামবনীতে উৎপাদিত করলা, তরমুজ, সব্জি এখন উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দিচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রামের সমতল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বেশি চাষবাস হতো। চাষের কাজে নিচু এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে। জেলার পূর্ব দিকের পাহাড়ী এলাকায় জলের অভাবে চাষবাস কম হতো। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলার পূর্ব দিকের ঢালু জমি এলাকায় চাষবাসের উপর নজর দেওয়া হয়। একাধিক এলাকায় চেক ড্যাম তৈরি করা হয়। জলের সমস্যা মিটতেই চাষবাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ঝাড়গ্রাম জেলায় চাষের পরিধি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্ৰাম, জামবনী, বিনপুর-২ ব্লকের গ্ৰামীণ এলাকায় ঢুকলেই দেখা যাবে,  চাষিরা করলা, তরমুজ, সব্জি বস্তাবন্দি করে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। গ্ৰামীণ এলাকায় অনবরত ছোটগাড়ি ঢুকে বস্তাজাত সব্জি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। করলা, তরমুজের বেশিরভাগ যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশে। ঝাড়গ্রামের কানসা এলাকার চাষি নগেন দোলুই বলেন, ঝাড়গ্রামের পূর্ব অংশে এখন করলা, তরমুজ চাষ হচ্ছে। বেশিরভাগটাই উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছে। বিনপুর-২ ব্লকের এড়গোদা এলাকার চাষি আশুতোষ গোপ বলেন, পাহাড়ী এই এলাকায় জলের অভাবে আগে বেশি চাষবাস হতো না। লালমাটির জমি পতিত হয়ে পড়ে থাকত। এখন মাচা বেঁধে করলা চাষ হয়। জলও খুব বেশি লাগে না। করলা ও তরমুজের চাহিদা আগের থেকে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। শাক-সব্জিও চাষ হচ্ছে। 
জামবনি ব্লকের পরিহাটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের আসনবুনি গ্ৰামের চাষি উত্তম হাঁসদা বলেন, এই এলাকায় আগে একবার ধান চাষ হতো। পঞ্চায়েত থেকে বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে। ডুলুং নদী থেকে পাইপে করে জল সরবরাহ হচ্ছে। যার জেরে এখন ধান ছাড়াও সব্জি চাষ হচ্ছে। তা বাইরে যাচ্ছে। 
জামবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মধুসূদন মুর্মু বলেন, এই ব্লকে কৃষির উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জল সরবরাহের সঙ্গে চাষিরা যাতে সহজে কৃষি যন্ত্রপাতি পায় তারও ব্যাবস্থা করা হয়েছে। নদী থেকে পাইপে করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। এক ফসলি জমিতে দু’বার চাষ হচ্ছে। যেসব পতিত জমি ছিল সেখানেও এখন চাষ হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, জেলায় চাষবাসের এলাকা বেড়েছে। সেচের জল সরবরাহ ও রাস্তাঘাটের উন্নতিতে এই বদল এসেছে। যার জেরে জেলার চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ