Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুরুচি থেকে বাদ ‘বিশ্বাস-ব্রাদার্স’! টালা প্রত্যয়ের পুজো মাঠে নয়: রীতেশ

সুরুচি সংঘের পুজোতে নতুন কমিটি গঠন, বাদ পড়লেন বিশ্বাস-ব্রাদার্স। টালা প্রত্যয়ের পুজো হবে, কিন্তু মাঠে নয়। বিস্তারিত পড়ুন।

সুরুচি থেকে বাদ ‘বিশ্বাস-ব্রাদার্স’! টালা প্রত্যয়ের পুজো মাঠে নয়: রীতেশ
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুরুচি সংঘের পুজো এবার ‘বিশ্বাস-হীন’! দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরুচির মানেই ছিল অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের পুজো। সম্প্রতি নতুন পুজো কমিটি তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটিতে সম্পাদক  হয়েছেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি নিউ আলিপুরের বাসিন্দা। সহ সভাপতি বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস যেভাবে সুরুচিকে নিজেদের ‘আখের গোছানোর জায়গা’ করে রেখেছিলেন, সেই যুগ শেষ হল বলে দাবি এলাকাবাসীর। এদিকে, টালা প্রত্যয়ের পুজো কোথায় হবে, সেটা নিয়েও জলঘোলা চলছে। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি অবশ্য জানিয়েছেন, টালা প্রত্যয়ের পুজো হবেই। কিন্তু, মাঠে তা হবে না। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, সুরুচিরর সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের যোগ নতুন নয়। সেই নব্বইয়ের দশক থেকেই সুরুচির পুজোর সঙ্গে যুক্ত ‘বিশ্বাস-ব্রাদার্স’। নিন্দুকেরা বলে, পুজো করেই ‘নাম’ কামিয়েছিলেন অরূপ। পরে কাউন্সিলার থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। সুরুচি সংঘের পুজো নতুন মাত্রা পেয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং সুর করা থিম সং ছিল সেই পুজোর ইউএসপি! অভিযোগ, ক্ষমতাবলে বিশ্ববাংলা শারদ সম্মানে এই পুজো থাকত একদম উপরের সারিতে। সুরুচি সংঘ ক্লাবকে রীতিমতো নিজেদের ‘সম্পত্তি’ বানিয়ে ফেলেছিলেন দুই বিশ্বাস, এমন অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাপ্রবাহে স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগে জেল হেপাজতে। অরূপ বিশ্বাসও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। এই অবস্থায় সুরুচি সংঘের পুজোর নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে। কমিটির সম্পাদক সৌরভ শিকদার বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। কমিটির মিটিং হবে। পুজো আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে হবে। দুর্গাপূজো বাঙালির প্রাণের উৎসব। সেখানে কোনো খামতি থাকবে না। সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই পুজো হবে। 
অন্যদিকে, টালা পার্কে প্রত্যয়ের পুজোর জন্য সারা বছর ধরে মাঠ দখল করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মাঠ দখলমুক্ত করেন স্থানীয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ সারাবছর ধরে দখল করে এভাবে পুজো করা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই ধন্দ তৈরি হয়েছিল, গত কয়েক বছরে রীতিমতো দুর্গাপুজোর ‘হটস্পট’ টালা প্রত্যয়ের পুজো কি এবার বন্ধ হয়ে যাবে? রীতেশবাবু জানিয়েছেন, পুজো হবে। কিন্তু, এই পুজো আগে যেখানে হত, সেই রাস্তায় পুজোর আয়োজনের পক্ষপাতী তিনি। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের আগে এই পুজো হত খেলাতবাবু লেন এবং রাজকুমার চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সংযোগস্থলে। তখন অবশ্য পুজোর নাম ছিল ভিন্ন। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ থেকে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হন ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ)। তাঁর হাত ধরে অন্য মাত্রা পায় এই পুজো। কিন্তু, পুজোর নামে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, পুজোকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। রীতেশ বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব। সেই উৎসবের চাকচিক্য, জাঁকজমক আরও বাড়বে। তবে, পুজোর নামে দুর্নীতি বরদাস্ত নয়। টালা প্রত্যয়ের পুজো হবে। আরও ভালোভাবেই হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ