সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আরজি করের ঘটনা ও এসআইআরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিষ্ণুপুরে তাঁকে বারবার সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। বিশ্বভারতীতে ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা সেই তরুণী তিতাস গুপ্তকে এবার প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। শুরু থেকেই বিষ্ণুপুর শহরে প্রচারের ময়দানে তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রচারে নারীসুরক্ষা ও নাগরিক অধিকারের উপরই তিনি বেশি জোর দিচ্ছেন। তাঁর হাত ধরে এবার রামে যাওয়া ভোট ঝুলিতে ফেরানোর আশায় রয়েছে বাম নেতৃত্ব।
প্রার্থী বলেন, আরজি করের ঘটনার সময় আমরা দলের তরফে রাত দখলের ডাক দিয়েছিলাম। তাতে বিষ্ণুপুরের বহু মহিলার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। নারী সুরক্ষার প্রশ্নে তাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানুষের হয়রানি, ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনে বহু মানুষ শামিল হয়েছেন। লড়াই জারি রাখতে নারীপুরুষ সবাইকে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছি। প্রচারে ভালো সাড়া পাচ্ছি।
বিষ্ণুপুর বিধানসভা ভোটে এই প্রথম বামেদের তরফে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বিষ্ণুপুর শহরের বাসিন্দা তিতাস গুপ্ত ২০১৫সালে বিশ্বভারতীতে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনার সময় সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’র সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর নানা সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮সালে মূল পার্টির সদস্যপদ নিয়ে বাঁকুড়া জেলায় কাজ শুরু করেন। আদিবাসীদের অধিকার, খেতমজুরদের দাবি নিয়ে দলের মহিলা শাখার আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। পরে তিনি দলের বিষ্ণুপুর লোকাল কমিটির সম্পাদিকার দায়িত্ব পান। এখন তিনি দলের রাজ্য কমিটির সদস্যা। তাই বিষ্ণুপুরে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিতাসের নাম সবার আগে আসে।
প্রার্থী হওয়ার পরেই তিনি প্রচারে নেমে পড়েছেন। সোমবার বিষ্ণুপুর আদালতের আইনজীবী এবং ল’ক্লার্কদের সঙ্গে দেখা করেন। বিকালে শহিদ ভগৎ সিংয়ের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে শহরের বাইপাসে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে ওই এলাকায় প্রচার করেন।
বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিষ্ণুপুরে বামেদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই ওদের প্রার্থী নিয়ে আমাদের মাথাব্যথাও নেই। তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ বলেন, ৩৪বছর ধরে বামেদের অত্যাচার মানুষ দেখেছে। মানুষ উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবে।