Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেশমের গুটি থেকে সুতো বের করতে বিনামূল্যে মহিলাদের যন্ত্র বিষ্ণুপুরের সেরিকালচার দপ্তরের

রেশমের গুটি থেকে সুতো বের করতে বিনামূল্যে মহিলাদের যন্ত্র বিষ্ণুপুরের সেরিকালচার দপ্তরের
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এতদিন পর্যন্ত তসর ও রেশম গুটি থেকে মহিলারা হাত পাকিয়ে সূতো কাটতেন। বিষ্ণুপুরের সেরিকালচার দপ্তর এবার মহিলাদের বিনামূল্যে যন্ত্র সরবরাহ করছে। বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৬৪টি সূতো কাটার যন্ত্র মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী, বিষ্ণুপুর সেরিকালচার দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর তরুন কুমার চইরা প্রমুখ। এছাড়াও বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক সহ পুরভার একাধিক কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। সূতো কাটার যন্ত্র হাতে পেয়ে মহিলারা ভীষণ খুশি হয়েছেন। 

Advertisement

তরুনবাবু বলেন, তসর বা রেশমের গুঁটি থেকে সূতো বের করা বেশ ঝক্কির কাজ। তবে বর্তমানে তার জন্য উন্নতমানের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র বের হয়েছে। তাতে সূতো বের করা বেশ সহজ। আমরা মহিলাদের তা বিনামূল্যে সরবরাহ করছি। এদিন মোট ৬৪জন মহিলাকে ওই যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। 
বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত শাড়ি বালুচরি ও স্বর্ণচরি। তার জন্য প্রয়োজন হয় রেশমের সূতো। আমাদের বিষ্ণুপুরে পর্যাপ্ত পরিমানে সেই সূতোর উৎপাদন হয় না। তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করছেন সেরিকালচার দপ্তরকে আরও চাঙা করতে। মহিলাদের কাজে লাগিয়ে তাঁদের হাতে যাতে দু’টো বাড়তি রোজগার হয় সেই চেষ্টাও চলছে। এদিন বিনামূল্যে সূতো কাটার যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে তাঁরা বাড়িতে সংসারের কাজ সামলেও বাড়তি আয় করতে পারবেন। 
সেরিকালচার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর শহরের তুঁতবাড়িতে দপ্তরের প্রায় ১০০বিঘা জমিতে তসর ও রেশম গুঁটি উৎপাদন করা হয়। ওই গুঁটি থেকে স্থানীয় মহিলারা সূতো বের করেন। তার বিনিময়ে তাঁরা পারিশ্রমিক পান। প্রায় ৭০০জন মহিলা ওই কাজ করেন। তাঁরা গুঁটি বাড়িতে নিয়ে চলে যান। গুঁটি থেকে বের করা সূতো দপ্তরে পৌঁছে দেন। তবে এতদিন তাঁরা হাতে করে চরকি ঘুরিয়ে সূতো কাটতেন। তাতে সময় বেশি লাগছিল। এদিন দপ্তর থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎচালিত মেশিন দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে সময় কম সময়ে বেশি পরিমান সূতো কাটতে পারবেন। তাতে আয়ও বেশি হবে। যন্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের তা চালানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। 
স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ালি গুঁই, পুতুল পাল বলেন, আমরা বাড়ির কাজ সামলে সূতো কাটার কাজ করি। রোজ গড়ে ২০০ টাকা আয় হয়। এখন মেশিন পেয়েছি। এবার থেকে আরও বেশি টাকা রোজগার হবে। -নিজস্ব চিত্র   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ