সুখেন্দু পাল বর্ধমান
সুখেন্দু পাল বর্ধমান
এক সময় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ হয়ে এ রাজ্যে ঢুকত সোনার বিস্কুট। রুট সেই একই রয়েছে। শুধু বদলে গিয়েছে বিস্কুট। তার জায়গায় ঠাঁই পেয়েছে সোনার বড় চাঁই। সেগুলি বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে এপারে আনা হচ্ছে। কখনও নদীয়া আবার কখনও উত্তর ২৪ পরগনা হয়ে সোনার চাঁই পৌঁছে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনার চাঁই ছোট ছোট টুকরো করে তা এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের পাচারকারীরা বিক্রি করছে। অনেক কম দামে সেগুলি কিনে তারা অলঙ্কার তৈরি করে বেশি দরে বিক্রি করছে। সম্প্রতি, এ রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিএসএফ প্রচুর পরিমাণে সোনার চাঁই উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি, কিছু পরিমাণ বিস্কুট, বাঁটও রয়েছে। ইদানীং প্রচুর রুপোও বাংলায় নিয়ে আসছে পাচারকারীরা। সূত্রের খবর, ২৩ জুলাই নদীয়া জেলায় পাঁচটি সোনার বিস্কুট সহ এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছিল বিএসএফ। পাঁচটি বিস্কুটের ওজন ছিল প্রায় ৫৮৩ গ্রাম। বুধবার সেই নদীয়াতেই সোনার বিশাল চাঁই সীমান্তরক্ষী বাহিনী উদ্ধার করেছে। যার ওজন ৪৩৯ গ্রাম। এ সব সোনা বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছিল। বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, একটি চেইন সিস্টেমে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সোনা আসে। সে দেশের বহু শ্রমিক আরবে কাজ করেন। বেশির ভাগ সময় পাচারকারীরা তাঁদের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় পাচারকারীরা বিভিন্ন সামগ্রীর সঙ্গে সৌদি থেকে বাংলাদেশে সোনা আনে। পরে তা সীমান্ত পার করে কখনও এ রাজ্য আবার কখনও ত্রিপুরায় পাঠানো হয়। চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা দু’ দেশেই রয়েছে। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ক্যারিয়াররা গ্রেপ্তার হয়। তারা চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের নাম জানে না। দীর্ঘ জেরা করেও লাভ হয় না। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সোনার বিস্কুট বা চাঁই অসাধু কারবারিরা গলিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে। পরে সেগুলি চড়া দামে বিক্রি হয়। অনেক আগে পাচারকারীরা ছোট কয়েনের আদলে সোনা আনত। পরে বিস্কুটের আকারে সোনা তৈরি করে আনা হতো। শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে আনা যায় এই বিস্কুট। এখনও সোনার বিস্কুট যে একেবারে আসছে না, এমনটা নয়। পাচারকারীদের সক্রিয় চক্রটি এবার সোনার বড় চাঁই নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছে। তাতে সুবিধা হল, একসঙ্গে অনেক বেশি সোনা নিয়ে আসছে। বাংলাদেশে পালা বদলের পর পাচারকারীদের এখন পোয়াবারো বলে অভিযোগ। পুলিস-প্রশাসনের টালমাটাল অবস্থার সুযোগে সোনা, রুপোর মতো বিভিন্ন সামগ্রী তারা রমরমিয়ে পাচার করছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দাবি, বেআইনিভাবে সোনা আনার চেষ্টা বেশির ভাগ সময়ই তারা প্রতিহত করে। পাচারকারীদের নামের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। নজর এড়িয়ে কেউ সোনা নিয়ে ঢুকে পড়লে পাচারকারীদের জেরা করা হয়। তাতে সুফলও পাওয়া যায়। • উদ্ধার হয়েছে সোনার বড় চাঁই। -নিজস্ব চিত্র