Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধিকারিকদের সই, স্ট্যাম্প জাল করেই জন্ম সার্টিফিকেট জালিয়াতি

আধিকারিকদের সই, স্ট্যাম্প জাল করেই জন্ম সার্টিফিকেট জালিয়াতি
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আাধিকারিকদের স্বাক্ষর এবং স্ট্যাম্প নকল করেই প্রতারকরা জালিয়াতি করছে। ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেটের ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিস এমনটাই জানতে পেরেছে। পুলিস ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট বিক্রির ঘটনায় একাধিক গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। কয়েক দিন আগে ভাতারের বলগোনা এলাকার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সে দোকান থেকে ৮০০ থেকে হাজার টাকার বিনিময়ে জাল জন্ম সার্টিফিকেট বিক্রি করত। জন্ম সার্টিফিকেটে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের আধিকারিকদের নকল সই এবং স্ট্যাম্প ছিল। যদিও পুলিস তদন্তে নেমে জেনেছে, এই ঘটনায় হাসপাতালের কোনও আধিকারিক বা কর্মী যুক্ত নেই। প্রতারকরা তাঁদের সই বা স্ট্যাম্প নকল করে সার্টিফিকেট ছাপাত। 

Advertisement

সম্প্রতি পাসপোর্টের আবেদনের জন্য জন্ম সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেকেরই এই সার্টিফিকেট নেই। প্রতারকরা সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা নিজেরাই সার্টিফিকেট ছাপিয়ে বিক্রি করছে। বিশেষ টেকনোলজির মাধ্যমে পুলিস সহজেই আসল নকলের ফারাক বুঝতে পারছে। এক আধিকারিক বলেন, জন্ম বা মৃত্যু সার্টিফিকেট বাইরে থেকে কেনা যায় না। সেটা সবার জানা উচিত। পঞ্চায়েত বা পুরসভায় সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। নথি খতিয়ে দেখার পরই সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। কিন্তু সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই। 
বিশেষ কয়েক বছর আগে যারা বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে এসেছে তাদের সমস্যা বেশি। তারাই বেশি করে প্রতারক চক্রের কাছে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা জন্ম বা মৃত্যু সার্টিফিকেট জমা করে ফায়দা তুললেও পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তারা সফল হচ্ছে না। প্রতারক চক্র সক্রিয় হওয়ায় ডিআইবিকে জন্ম সার্টিফিকেট খুঁটিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। আরেক আধিকারিক বলেন, সন্দেহ হলেই সিরিয়াল নম্বর যাচাই করা হচ্ছে। তাতেই খুব সহজই আসল বা নকলের ফারাক বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া জন্ম সার্টিফিকেটে কোন আধিকারিকের সই থাকে তা প্রতারকরা জানে না। তারা তাদের ইচ্ছেমতো আধিকারিকদের নামে সই করে। তাতেই অনেক সময় তাদের পর্দা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। জেলা পুলিসের আর এক আধিকারিক বলেন, বর্ধমান, আউশগ্রাম, শক্তিগড়, ভাতার, নাদনঘাট থানায় এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়। তদন্তের পর পুলিস কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। চক্রের আরও অনেকে ফেরার রয়েছে। পুলিস তাদের খাঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এই চক্রে কোনও সরকারি কর্মী যুক্ত রয়েছে কিনা সেটাও তারা খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ