তিরুবনন্তপুরম: ২০২৫ দুর্দান্তভাবে শেষ করেছে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কাকে টি-২০ সিরিজে ৫-০ হোয়াইটওয়াশ করেছে হরমনপ্রীত কাউর ব্রিগেড। ঘরের মাঠে এই প্রথম কোনও বিপক্ষকে এভাবে ধবলধোলাই করল ভারতের প্রমীলা বাহিনী। জুন-জুলাইয়ে রয়েছে কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ। তার আগে এই সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে। গত নভেম্বরে ওডিআই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হরমনপ্রীত-স্মৃতিদের পাখির চোখ এবার টি-২০ ফরম্যাটেও বিশ্বসেরার মুকুট।
ইংল্যান্ডের মাটিতে কাপযুদ্ধে নামার আগে আর মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলবে ভারত। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজে শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, জেমাইমা রডরিগেজ, হরমনপ্রীতের রান পাওয়া সেজন্যই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এঁদের প্রত্যেকেই অন্তত একবার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছেন। সিরিজের সেরা শেফালির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা তিন। তাঁর ব্যাটে এসেছে ২৩৬ রান। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন পিছনে ফেলে চতুর্থ ম্যাচে মান্ধানার ৮০ রানও জোগাচ্ছে স্বস্তি। জেমাইমা চোটের জন্য সিরিজের শেষদিকে খেলতে পারেননি। তবে তাঁর চোট গুরুতর নয়। আর হরমনপ্রীত শেষ ম্যাচে চাপের মুখে ‘ক্যাপ্টেন্স নক’ উপহার দিয়েছেন। ২০ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার বৈষ্ণবী শর্মাও অভিষেক সিরিজেই নজর কেড়েছেন। আরুন্ধতী রেড্ডি, আমনজোৎ কাউরারা পেসার অলরাউন্ডারের ভূমিকায় যথাযথ, যা ভারসাম্য বাড়িয়েছে দলে।
ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীতের গলায় তাই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘এই বছরটা দারুণ কাটল। কঠোর পরিশ্রমের সুফল পেয়েছি আমরা। নতুন বছরে ফের এভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা সবাই একসঙ্গে প্রচুর কুড়ি ওভারের ম্যাচ খেলেছি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জ্বলে উঠতে পারি। এই গনগনে বিশ্বাসটা এসেছে। তবে আত্মতুষ্ট হলে চলবে না। স্ট্রাইক রেটে উন্নতির কথা বলেছিলেন কোচ। সেটাও অনেকাংশে সফল। এই সিরিজে অনেক ইতিবাচক দিকই সামনে এসেছে।’
মঙ্গলবার অন্যপ্রান্তে ক্রমাগত উইকেট পড়ার মধ্যেও ৪৩ বলে ৬৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন হরমনপ্রীত। নিজের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, ‘ব্যাটার হিসেবে অবদান রাখা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ওডিআই থেকে টি-২০ ঘরানায় মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু আমরা পেরেছি।’ ৯ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে উওমেন্স প্রিমিয়ার লিগ। আপাতত সবার ফোকাস সেই আসরে। হরমনপ্রীতের কথায়, ‘আমাদের সবার কাছেই এটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, নিজেদের সেরাটা দিতে পারব। পাশাপাশি উপভোগ করাটাও জরুরি। পরের ছয় মাস আরও ধারালো হয়ে ওঠাই সকলের লক্ষ্য।’
সিরিজের সেরা শেফালিও একই সুরে গলা মিলিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘একই ভুল যেন আর না হয়, সজাগ থাকছি। লম্বা সময় ধরে ক্রিজে থাকতে চাই। কখনও কখনও পরিশ্রম করলেও তার ফল মেলে না। তবে আমি উন্নতির রাস্তায় থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর টি-২০ হল আমার ফেভারিট ফরম্যাট। আরও ভালো করতে চাই এই ঘরানায়।’