Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারুইপুরে পুরসভার উদ্যান থেকে পাখি পাচার, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানই ফাঁসিয়েছে, দাবি ধৃত অভিযুক্তের

বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলাররা ফাঁসিয়েছে আমাকে। ওঁরা সব জানেন

বারুইপুরে পুরসভার উদ্যান থেকে পাখি পাচার, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানই  ফাঁসিয়েছে, দাবি ধৃত অভিযুক্তের
  • ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলাররা ফাঁসিয়েছে আমাকে। ওঁরা সব জানেন। আমরা সাধারণ কর্মচারী, নির্দেশ পালন করেছি মাত্র। গ্রেপ্তারের পর এমনই দাবি করেছেন বারুইপুর পুরসভা পরিচালিত আরণ্যক বনভোজন উদ্যানের সুপারভাইজার পল্লব ভারতী। বৃহস্পতিবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরীর দাবি, ‘ওনার কথা উনি বলেছেন।’ এই উদ্যানের আরেক কর্মী সঞ্জয় গায়েনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারক ধৃতদের ন’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

বুধবার রাতে বারুইপুর থানার পুলিশ পল্লব ভারতীকে নিয়ে পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বৈষ্ণবপাড়ায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পল্লবের তিনতলা প্রাসাদোপম বাড়ি দেখে অবাক পুলিশ অফিসাররা। তিনি শুধু ওই উদ্যানের সুপারভাইজার ছিলেন না, একইসঙ্গে ছিলেন পুরসভার জঞ্জাল বিভাগের সুপারভাইজার। সূত্রের খবর, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি সোনার গয়না যে কেনা হয়েছিল, সেই বিল পাওয়া যায়। এত গয়না কেন কেনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, ঘর থেকে বেশ কিছু জমির দলিল ও চেকবই পাওয়া গিয়েছে। ওই বাড়িতেই মিলেছে একটি আফ্রিকান টিয়া ও একটি কাকাতুয়া পাখি। বনদপ্তরের কাছে সেগুলি পাঠানো হয়েছে। এদিন, তাঁর বাড়ির বাইরে থেকে উদ্ধার হয়েছে ময়ূরের বেশ কিছু পালক। ওই বাড়ির পাশাপাশি উদ্যান সংলগ্ন একটি রেস্তরাঁতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। ওই রেস্তরাঁর মালিক পল্লব নিজে। একইসঙ্গে অভিযুক্তের ঢাকুরিয়ার ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। ওই উদ্যানের এক পরিচালক জানিয়েছিলেন, বেশ কিছু ময়ূর মারা গিয়েছে।
ধৃত পল্লব ভারতীর দাবি, পুর কর্তৃপক্ষ সবটা জানত। ময়ূরের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাসকে। তিনি বনদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আমি নিজে ফোন নম্বর দিয়েছিলাম। এখানেই প্রশ্ন, বনদপ্তর যদি বিষয়টি জেনে থাকে, তাহলে কেন ব্যবস্থা নিল না? চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী দায় ঝেড়ে ফেলে বলেন, পাখি মারা যাওয়ার খবর পল্লব আমাদের জানাননি। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ