Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! ওড়িশার ক্যাম্পে ফের আটক বীরভূমের শ্রমিকরা, উদ্বেগ

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! ওড়িশার ক্যাম্পে ফের আটক বীরভূমের শ্রমিকরা, উদ্বেগ
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : বাংলাদেশি সন্দেহে বিজেপি শাসিত ওড়িশায় বাংলার শ্রমিকদের হেনস্তা অব্যাহত। ফের বীরভূমের সাত পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে সে রাজ্যের ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এ আটকে রাখার অভিযোগ তুলল পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ। কেড়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল। উদ্বেগে পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় সরব হয়েছেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। বুধবার তিনি বলেন, ‘এইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের কী দোষ? তাঁরা বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি বলা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, ‘বাংলার এই দরিদ্র মানুষের প্রতি এই বিদ্বষেপোষণ করে কী প্রমাণ করতে চাইছেন? আমাদের বারবার আবেদন সত্বেও কেন্দ্র সরকার এই বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার সমাধানে কোনওপ্রকার মাথা ঘামাচ্ছে না।’ 

Advertisement

জানা গিয়েছে, মুরাইয়ের কাহিনগর গ্রামের মুস্তাকিম শেখ, নাজিমুদ্দিন শেখ, সেতাবুল শেখ, সাবির শেখ, আতাউল শেখ এবং পাইকরের কামালপুর গ্রামের লিপটন শেখ ও সাইরুদ্দিন শেখ ওড়িশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সম্প্রতি ঈদের শেষে তাঁরা আবারও ওড়িশায় যান। অভিযোগ, কাহিনগর গ্রামের পাঁচ শ্রমিককে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের নামে ওড়িশার বালেশ্বর থানার পুলিস আটক করে। অন্যদিকে, ডকুমেন্ট যাচাই করবে বলে মঙ্গলবার রাতে ওড়িশার গান্ধিচক এলাকা থেকে কালামপুর গ্রামের দুই শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায় সেখানকার পুলিস। পরে তাঁদের ব্রজনগর এসডিপিও অফিসে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ঝাড়সুগুদা জেলার একটি ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেতেই দুঃশ্চিন্তা গ্রাস করেছে পরিবারের সদস্যদের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। সাইরুদ্দিনের মা আবিরুণ বিবি বলেন, ‘ধরে নিয়ে যাওয়ার সময়ই ছেলে ফোন করে বলে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিস ধরেছে। ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করে ছেড়ে দেবে। কিন্তু ছাড়া হয়নি। তাকে সহ এলাকার অনেকের মোবাইল কেড়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। ছেলের আয়ের উপরই আমাদের সংসার নির্ভরশীল। পূর্বপুরুষ ধরে আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আধার, ভোটার, রেশনকার্ড, পূর্বপুরুষদের জায়গার দলিল সবই রয়েছে। তারপরও বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। আমার দাবি, ছেলেকে মুক্তি দেওয়া হোক।’ ওই সাত পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলা পুলিসকে জানানো হয়েছে। পুলিস তাঁদের ডকুমেন্টও যাচাই করে নিয়ে যায়। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রিপন শেখ বলেন, ‘আমাদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে চলে। এক রাজ্যের শ্রমিক আরেক রাজ্যে গিয়ে করেকম্মে খাবে। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকরা বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হয় আটকে রাখা হচ্ছে, নতুবা বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। বাংলার শ্রমিকরা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং হাতের কাজ ভালো। তাই বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে। এটাই মেনে নিতে পারছে না। আমরা পরিবারের কাছ থেকে তাঁদের সমস্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। সেই সঙ্গে বিষয়টি সামিরুল সাহেবকেও জানানো হয়েছে।’ সামিরুল সাহেব বলেন, ‘আমাদের মুখ্যসচিব ওড়িশার মুখ্য সচিবকে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের দুদর্শার বিষয়ে একাধিকবার চিঠি লিখেছেন। আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। ওড়িশা সরকার সম্প্রতি বীরভূম, মালদা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা সহ বাংলার বিভিন্ন জেলার দু’শোজনেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিককে আটকে রেখেছে। এই বর্বর মনোভাব যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করব।’ মুরারই, পাইকর, নলহাটির একটা বড় অংশের শ্রমিক ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশায় ১৭ জনকে আটক, এবং পাইকর ও মুরারইয়ের দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা।   কামালপুর গ্রামের লিপটন শেখের উদ্বিগ্ন মা ও স্ত্রী। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ