Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূমের মুরারইয়ে শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, জ্বলল সরকারি রাজস্ব আদায়ের অফিসও

বীরভূমের মুরারইয়ে শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, জ্বলল সরকারি রাজস্ব আদায়ের অফিসও
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ১৬:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : পাথর বোঝাইয়ের লরি চাপা পড়ে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের আকার নিল বীরভূমের মুরারইয়ের সন্তোষপুর। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা প্রথমে পথ অবরোধ করেন। খবর পেয়ে প্রথমে এলাকায় আসেন মুরারই থানার পুলিস। আন্দোলনকারীরা পুলিসকে তাড়া করে হটিয়ে দেয়। পরে সরকারি রাজস্ব আদায় ও পাথর ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের টোল আদায়ের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় চার ঘণ্টার পর দুপুর দুটো নাগাদ পুলিসের আশ্বাসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ সন্তোষপুরের কাছে একটি লরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে পড়ে। সংকীর্ণ রাস্তা হওয়ায় তখন থেকেই পথে বেরিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় স্থানীয়দের। তেমনি রাস্তায় পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক পাথর বোঝাই লরি। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও লরিটিকে না সারানোয় ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন স্থানীয়রা। যদিও আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকে জক লাগিয়ে লরিটি সারানোর কাজ চলছিল। এরই মধ্যে এদিন সকাল সাতটা নাগাদ শিমূলঝুড়ির বাসিন্দা নাইকি হাঁসদা তাঁর আট বছরের শিশুপুত্রকে বাইকের পিছনে বসিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে বেসরকারি স্কুলে দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই ওই লরিটি উল্টে যায়। ও তাতে চাপা পড়ে যান বাবা ও ছেলে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিশুটির। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও পা ভেঙে যায় নাইকির। এরপরই বনরামপুর, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, সন্তোষপুর সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা লরির মালিকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের পাশাপাশি পথ অবরোধ শুরু করে। খবর পেয়ে প্রথমে এলাকায় আসে মুরারই থানার পুলিস। তাঁরা অবরোধ তুলতে গেলে আন্দোলনকারীরা পাল্টা পুলিসকেই তাড়া করে। তারপরেই উত্তেজিত জনতা ওই এলাকায় থাকা রাজস্ব আদায়ের অফিসে ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযোগ, পাশে থাকা একটি অফিসেও আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। যদিও তাতে থামেননি গ্রামবাসীরা। পরে পাথর ব্যবসায়ী সংগঠনের টোল আদায়ের অফিসেও একইভাবে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। রণক্ষেত্রের আকার নেয় গোটা এলাকা। আন্দোলনকারীরা বলেন, সোমবার বিকেলে থেকে আজ সকাল পর্যন্ত লরি বিকল হয়ে রাস্তা জ্যাম করে রেখেছে। অথচ মালিক বা পুলিস কিংবা প্রশাসনের কেউই সেই দিকে নজর দেয়নি। তাই সেই ঘটনার প্রতিবাদে অবরোধ চলবে। সঙ্গে তাদের আরও দাবি, পাথর বোঝাই লরিকে ওই রাস্তা দিয়ে ধীরগতিতে যেতে হবে। সেই সঙ্গে ওভারলোড বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বেহাল এই রাস্তায় নিয়মিত জল ছেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাথর ব্যবসায়ী সমিতি যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বিষয়গুলি নিয়ে লিখিত আশ্বাস দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় রামপুরহাটের এসডিপিও, সিআই, মুরারই ও পাইকর থানার ওসি সহ প্রচুর পুলিস কর্মী থেকে আধিকারিকরা। তাঁরা আন্দোলনকারীদের কথা শোনেন।

তারপরেই পুলিসের পক্ষ থেকে পাথর ব্যবসায়ী সমতি, ডাম্পার ও লরির মালিক, গ্রামবাসীদের একাংশ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে বিডিও অফিসে বৈঠকে বসার আশ্বাস দেওয়া হয়। সঙ্গে বলা হয়, এই তিনদিন ওই এলাকা দিয়ে কোনও বড় গাড়ি চলাচল করবে না। পুলিসের এই আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ