সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে কর্মসংস্কৃতির উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। শান্তিনিকেতনের সেন্ট্রাল অফিস, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও রবীন্দ্র ভবনে কর্মী-আধিকারিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু হতে চলেছে। এই ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কর্মীদের উপস্থিতি নিরীক্ষণ করা হবে। যাতে, কর্মক্ষেত্রে সময়মতো আসা-যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্বভারতীতে কর্মসংস্কৃতির অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অফিসে উপস্থিতি, নির্ধারিত কর্তব্য পালন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ন্যাক ও এনআইআরএফের র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ায় সেই বিষয়টি মান্যতা পায়। তাই বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার পর কর্মসংস্কৃতির মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সেন্ট্রাল অফিস, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও রবীন্দ্র ভবনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই ব্যবস্থাপনায় ৬০লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাকি ভবন ও বিভাগগুলিতেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। বর্তমানে সেন্ট্রাল অফিসে কর্মী ও আধিকারিকের সংখ্যা কমবেশি ৫০০জন। সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও রবীন্দ্র ভবনে সেই সংখ্যা ১০০-র বেশি। তাই বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু করতে গেলে কর্মী ও আধিকারিকদের আঙুলের ছাপ, চোখের রেটিনা স্ক্যান প্রভৃতি তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এছাড়া, এই তিন অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া, বহিরাগতদের প্রবেশের জন্য কী ব্যবস্থা করা যায়, সেই বিষয়েও কর্তৃপক্ষ চিন্তা-ভাবনা করছে। তাই এই ব্যবস্থাপনা চালু হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তবে, এই ব্যবস্থাপনা চালু হলে কর্মসংস্কৃতি ফেরার পাশাপাশি নিরাপত্তাও জোরদার হবে। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, প্রযুক্তি-নির্ভর এই নজরদারির মাধ্যমে বিশ্বভারতীর কাজের পরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরবে। কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নিষ্ঠা আরও বাড়বে। একটি প্রতিষ্ঠান তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন তার কর্মীরা দায়িত্বশীল ও নিয়মমাফিক কাজ করেন। আমরা চাই, সবাই সময়মতো অফিসে আসুক। নির্দিষ্ট কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করুক। এই মনোভাব গড়ে তুলতেই এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সুনিশ্চিত হবে। বিশ্বভারতীর মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনকে কর্মসংস্কৃতির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।
ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, আমাদের উপাচার্য কর্মসংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আশা করি, দ্রুত এই ব্যবস্থা চালু হবে।